Articke 370 Move: ৩৭০-এর গেরোয় ফের নিজের রাজ্য ঢুকতে পারলেন না গুলাম নবি আজাদ,  জম্মু বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে ফিরতে হল
গুলাম নবি আজাদ(File Photo)

জম্মু, ২০ আগস্ট: ফের নিজের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারলেন না প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা জম্মু ও কাশ্মীরের (into Jammu & Kashmir) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ (Ghulam Nabi Azad)। মঙ্গলবার পৌনে তিনটে নাগাদ তিনি জম্মু বিমান বন্দরে পৌঁছান। ফের চারটে বেজে দশ মিনিটের দিল্লিগামী বিমানে তাংকে জোর করে রাজধানীতে ফেরত পাঠিয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা। বার বার বলছেন, সরকার যখন ঘোষণা করেই দিয়েছে যে কাশ্মীর ভাল আছে, সেখানে শান্তি আছে তাহলে তিনি কেন নিজের রাজ্যে প্রবেশ করতে পারছেন না?

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা (Article 370)বিলোপের আগেভাগেই তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে ফেলে সেখানকার পুলিশ প্রশাসন ও সেনা। পরে ডক্টর ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতিকে সতর্কতা মূলক গ্রেপ্তার করে বাড়ি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দুজনকেই পৃথক সরকারি ভবনে রাখা হয়েছে। গৃহবন্দি হয়ে আচেন প্রবীণ ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা তথা কাশ্মীরের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সাংসদ ফারুক আবদুল্লা। গৃহবন্দি দশা থেকে একদিন নিজেই কোনওক্রমে বেরিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেছিলেন তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। তাই সংসদে হাজির থাকতে পারেননি। এবং সেদিন বলেই দেন, তাঁর নামে সংসদে মিথ্যে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিকে গুলাম নবি আজাদও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে গত আট তারিখেই রাজ্যের পরিস্থিতিখতিয়ে দেখতে বিমানে চেপে শ্রীনগরে পৌঁছেছিলেন আজাদ, সেই সময় রাজ্যাপাল সত্যপাল মালিকের প্রশাসনের তরফে তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি উপত্যকায় প্রবেশ করে কোনওরকম মন্তব্য করলেই সেখানাকার আপাত শান্ত পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। সেটা কাম্য নয় বলেই গুলাম নবি আজাদকে সেদিন শ্রীনগর বিমান বন্দরের বাইরে বেরতে দেওয়া হয়নি। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ দিন। গতকাল উপত্যকার সরকারি অফিস কাছারিতে কাজ শুরু হয়েছে, ২০০টি স্কুল খুলেছে। তবে কোথাও নিরাপত্তা বেষ্টনী এক চুলও কমেনি। অজিত ডোভাল এরপরেই শ্রীনগর ছেড়ে দিল্লি ফিরে অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করে কাশ্মীরে গ্রাউন্ড রিপোর্ট পেশ করেন। এবার নিজের রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ফের জম্মু আসেন আজাদ, তবে সেই একইভাবে তাঁকে ফিরতে হয়। এই ফেরাকে মেনে নিতে পারেননি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। বলেন, এটা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। যখন কোনও প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাই কাশ্মীরে যেতে পারছেন না তখন কে যেতে পারবেন? জানতে চান তিনি। আরও পড়ুন-বিদ্বেষের রাজনীতি, গণপিটুনি, হিংসা ভারতের শাসন পরিকাঠামোকে নষ্ট করছে, গর্জে উঠলেন মনমোহন সিং

উল্লেখ্য, আদৌ কাশ্মীর ভাল আছে কি না তানিয়ে গত সপ্তাহেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। আর তখনই কটাক্ষ করে বিমান পাঠিয়ে রাহুলকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক (Satya Pal Malik)। কটাক্ষ গায়ে না মেখে সেই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছিলেন রাহুল। জানিয়েছিলেন, বিমান লাগবে না, সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা তাঁর সঙ্গে কাশ্মীর পরিদর্শনে যাবেন। এরপরই উল্টো সুর গাইতে শুরু করেন সত্যপাল মালিক বলেন, বিষয়টি সেনাকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে ছাড়পত্র দিলেই রাহুল উপত্যকায় আসতে পারবেন। বলা বাহুল্য, সেই ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। এরমধ্যে ফের জম্মু থেকে ফিরতে হল গুলাম নবি আজাদকে।