জলপথে ভারতে ঢুকে পড়েছে লস্কর জঙ্গিদের দল, তামিলনাড়ুতে নাশকতার সম্ভাবনায় তৎপর সেনাবাহিনী
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসকে সাইনি(Photo Credit: ANI)

পুণে, ৯ সেপ্টেম্বর: উপত্যকা থেকে বিশেষ স্টেটাস খর্ব করেছে কেন্দ্র। এরপর থেকেই যেনতেন প্রকারেণ কাশ্মীর সমস্যাকে বিশ্বের দরবারে বড় করে দেকাতে পাকিস্তান কোনও সুযোগই ছাড়ছে না। এমনকী, পের পুলওয়ামা হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ইমরান খান (Imran Khan)। সম্প্রতি জানা গিয়েছে নিয়্ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গির সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। পাকিস্তান সেনারাই তাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। নিয়্ন্ত্রণরেখা থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে ২০০০ পাক সেনা মোতায়েন হয়েছে। পাক জঙ্গিরা কাশ্মীরে জঙ্গিদের সঙ্গে সাংকেতিক ভাষায় কথাবার্তা বলার জন্য পাক সেনার রেডিও টাওয়ার ব্যবহার করছে। এবার নাকি তামিলনাড়ুতে হতে পারে জঙ্গি হানা গুজরাটে স্যার ক্রিকে কয়েকটি মাঝিহীন নৌকার খোঁজ মিলতেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা (Article 370) প্রত্যাহারের পর থেকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের হামলার আশঙ্কা এমনিই রয়েছে। সে জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সব রাজ্যের মুখ্য সচিব ও ডিজি পুলিশের কাছে  অ্যাডভাইজারি পাঠিয়েছে। সোমবার সেনাবাহিনী জানাল, দক্ষিণ ভারতে বড় রকমের সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে। সেনার তরফে এও জানানো হয়েছে, স্যার ক্রিকে কয়েকটি পরিত্যক্ত নৌকো পাওয়া গিয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই নৌকো করে জঙ্গিরা সমুদ্র পথে ভারতে ঢুকেছে। এই প্রসঙ্গে সাউদার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন- চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস কে সাইনি জানিয়েছেন, “দক্ষিণ ভারতে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। কিছু পরিত্যক্ত নৌকো পাওয়া গিয়েছে স্যার ক্রিকে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” আরও পড়ুন-ভারতের মাটিতে অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই নেই, অসমে পা রেখেই গলা তুললেন অমিত শাহ

উল্লেখ্য, গুজরাত ও পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মধ্যে সরু এক ফালি সামুদ্রিক অংশ হল স্যার ক্রিক। এখান দিয়েই নৌকো গুলি ভারতের জলসীমায় এসে পড়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ওই নৌকাতে চেপেই লস্কর জঙ্গিদের (LeT) একটি দল পৌঁছেছে তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu)। সেনাবাহিনীর এই সতর্কবার্তার পরই কেরল পুলিশ গোটা রাজ্য জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সামনেই ওনাম উৎসব আসছে। তার আগে সমস্ত রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, সরকারি ভবন, স্কুল, কলেজ, বাজারের সামনে প্রহরা ও পুলিশি টহল বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুম্বই সন্ত্রাসের ঘটনায় জঙ্গিরা সমুদ্র পথেই এসেছিল। ডিঙি নৌকো চেপে উপকূল রক্ষী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে ঢুকে পড়েছিল দেশের বাণিজ্য নগরীতে। সেই ধরনের হামলার আশঙ্কাই করছে সেনাবাহিনী।