Maggi: ম্যাগি খেয়ে ১০ বছরের বালকের মৃত্যু, নেসলের নুডলস নিয়ে নতুন করে বিতর্কের আঁচ ছড়িয়েছে
Maggi (Photo Credits: X)

লখনউ, ১২ মেঃ বাচ্চাদের মধ্যে এক পছন্দের খাবার হল ম্যাগি (Maggi)। ভাত, তরকারি, ফল, শাক, সবজির থেকে যেন এক বাটি ম্যাগি পেলে তাঁরা বেজায় খুশি হয়ে যায়। চটজলদি তৈরি হওয়া ম্যাগি প্রাণঘাতী হয়ে উঠল এক বছর দশেকের বালকের জন্যে। অতি পছন্দের সেই ম্যাগি খেয়ে মৃত্যু হল তাঁর। এছাড়া তাঁর পরিবারের আরও ছয় সদস্য গুরুতর অসুস্থ। ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) পিলভিটের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার তিন সন্তান এবং স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়ি এসেছিলেন সীমা। রাতে রান্নার ঝক্কি না রেখে সকলে ম্যাগি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সঙ্গে ভাত। সেই মত সকলে মিলে ম্যাগি আর ভাত রাতে ঘুমাতে যায়। মাঝ রাত থেকে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন সকলে। শুরু হয় হরহর করে বমি। পরিস্থিতি ক্রমে হাতের বাইরে যেতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় তাঁদের। চিকিৎসকরা জানায়, মারাত্মক ভাবে খাদ্য বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) শিকার হয়েছেন সকলে। হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে মহিলার দশ বছরের  ছেলের।

ম্যাগি (Maggi) নিয়ে এক আগও একাধিকবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৫ সালে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, ম্যাগিতে মাত্রাতিরিক্ত সিসা রয়েছে। সেই সাংঘাতিক অভিযোগের পর ম্যাগির মাতৃ সংস্থা নেসলে কর্তৃপক্ষের ৬৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ হয়েছিল। সেই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল নেসলে। দীর্ঘদিন যাবত আদালতে সেই মামলা চলে। আদালত বিষয়টি বিবেচনার জন্যে ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশনের কাছে পাঠায়। গত এপ্রিলে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় NCDRC। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, ম্যাগিতে যে পরিমাণ সিসা রয়েছে তা মাত্রাতরিক্ত নয়, নির্ধারিত সীমার মধ্যেই।

সেই বছরই ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া নেসলেকে বাজার থেকে ম্যাগি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সিসা আর আজিনামোতো নিয়ে বিতর্কের জেরে তিন দশকেরও বেশি সময়ে ধরে বাজারে চলা ম্যাগির বিক্রিতে বসেছিল নিষেধাজ্ঞা। তবে সেই সময়ে ভারতের খাদ্য গুণমান নিয়ামক সংস্থার পরীক্ষায় পাশ করে ম্যাগি। আবারও বাজারে ম্যাগি বিক্রির ছাড়পত্র পায় নেসলে। ধীরে ধীরে ফের বাজারে ছেয়ে যায় ১০ মিনিটের নিসট্যান্ট নুডলস ম্যাগি।

তবে পিলভিটের ওই পরিবার ম্যাগি খেয়ে কীভাবে বিষক্রিয়ার আক্রান্ত হল সেই তদন্ত করছে পুলিশ। যে দোকান থেকে ম্যাগি কেনা হয়েছিল তারও খোঁজ চলছে। ম্যাগির এক্সপাইরি ডেট পেরিয়ে গিয়েছিল কিনা সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।