Nikki Bhati Death (Photo Credit: X)

দিল্লি, ২৫ অগাস্ট: লোভ, লালসার কোনও সীমা পরিসীমা নেই। তাইতো প্রায় বেকার ২ ভাইয়ের সঙ্গে ২ মেয়ের বিয়ে দিয়ে করণ পরিণতি হল এই পরিবারের দুই মেয়ের। গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida) বাসিন্দা নিকি ভাটির (Nikki Bhati) মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ। নিকি ভাট্টি এবং তাঁর বোন কাঞ্চন বিউটি পার্লার, বুটিক খুলে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে চাইছিলেন। নিজেদের শক, আহ্লাদ পূরণ করে, ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষা দিতে চাইতেন নিকি এবং কাঞ্চন। কিন্তু সেখানেও বাধা সাধে বিপিন ভাট্টি (Bipin Bhati)  এবং রোহিত ভাট্টি। যার জেরে শেষ পর্যন্ত নিকি ভাট্টির মর্মান্তিক পরিণতি হল প্রত্যেকের চোখের সামনে।

আরও পড়ুন: Heart Breaking Video Nikki Bhati: পণের জ্বালায় মেরে ফেলল নিকিকে, বউকে মেরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যায় বিপিন, এবার প্রকাশ্যে আরও একটি ভিডিয়ো, চোখে জল গোটা দেশের

২০১৬ সালে বিয়ে এবং পরিস্থিতি কীভাবে বদলাতে শুরু করে 

২০১৬ সালে নিকি ভাট্টির সঙ্গে বিয়ে হয় বিপিন ভাট্টির। অন্যদিকে বিপিনের ভাই রোহিতের সঙ্গে বিয়ে হয় নিকির ছোট বোন কাঞ্চনের। ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে থেকেই পরিস্থিতি পালটে যেতে শুরু করে।

নিকির কাকা জানান, ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একই বিয়ের অনুষ্ঠানে চার হাত এক হয়। সোনা, গয়না, গাড়ি সবকিছু দিয়ে বিপিন এবং রোহিতের সঙ্গে তাঁরা তাঁদের দুই মেয়ে নিকি এবং কাঞ্চনের বিয়ে দেন। বিয়ের পর সন্তানের জন্মের জন্য বিপিনকে মোটর সাইকেলও দেন নিকির বাবা-মা। যখন, যা চাইত বিপিন, তা পূরণের চেষ্টা করত নিকির পরিবার। আর সেই লোভই এক সময় সীমা পার করে যায় বিপিনের মধ্য়ে।

প্রায়দিনই বিপিন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ঢুকত এবং নিকিকে মারধর করত। এমনকী ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বিপিন অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বলে জানান নিকি ভাট্টির কাকা।  এই করেই ক্রমশ পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে এবং ভাট্টি পরিবার যেন দুর্বিসহ হয়ে উঠতে শুরু করে নিকি এবং কাঞ্চনের কাছে।

নিকির বোন কাঞ্চন কী জানান 

নিকির বোন কাঞ্চনের জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ তাঁর দিদির মৃত্যুর পর। যেখানে কাঞ্চন বলেন, বিপিন এবং রোহিত বেশিরভাগ রাতে বাড়িতে ফিরত না। তাঁরা কোথায় জিজ্ঞাসা করলে, বাড়িতে ফিরে অশ্লীলতা করত। তাঁদের মারধর করত দুই ভাই। এমনই জানান কাঞ্চন। বেশিরভাগ রাত তাঁদের কেঁদেকেটে চলে যেত বলে জানান নিকির বোন কাঞ্চন।

জানা যায়, নিকির বাবা একটি মার্সিডিজ় চালাতেন। বিপিন সেইরকমই একটি মার্সিডিজ় দাবি করে শ্বশুরের কাছে। মার্সিডিজ় না দিলে, নগদ ৬০ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করে বিপিন। যা নিয়ে বিভিন্ন সময় নিকিকে মারধর করা হত বলে খবর।

ভয়াবহ খুনের ঘটনা রেকর্ড হয় ক্যামেরায় 

নিকির মৃত্যুর পর কাঞ্চনের যে জবানবন্দি সামনে এসেছে সেখানে বিপিনের ভয়াবহ অত্যাচারের কথা প্রকাশ পায়। যা নিকির পার্লারের ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে যায বিপিন এবং তার মা দয়া নিকিকে মারধর শুরু করে। তারপর পার্লারের মধ্যে নিকির গায়ে তারা দাহ্য পদার্থ ঢেলে দেয়। কাঞ্চন বাধা দিলে, তাঁকেও হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।

এরপর নিকিকে সিঁড়ির উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দেওয়া হয়। ভয়াবহ অবস্থায় নিকিকে দিল্লির সফদরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিকির ছোট ছেলে জানিয়েছে, তার সামনেই বাবা এবং ঠাকুমা তার মাকে মারতে শুরু করে। এরপর দাহ্য তরল ঢেলে, চড় মারা হয়। তারপর বাবা এবং ঠাকুমা মিলে তার মায়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে নিকির ৬ বছরের ছেলে।