Magic Remedies: 'অলকেশের মত অনেকে খুশি হবেন'...চুল গজানোর তেল-ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব নিয়ে বললেন 'টেকো' ছবির পরিচালক অভিমুন্য মুখার্জি
অভিমুন্য মুখার্জি (Photo Credits: Facebook/Pixabay)

কলকাতা, ৭ ফেব্রুয়ারি: অমুক তেল (Hair Oil) চুলে দিলেই টাক ফাঁক হয়ে গজিয়ে উঠবে চুল। কিংবা তমুক ক্রিম (Fairness Creme) গালে লাগালেই আপনার কালো ত্বক হয়ে উঠবে নিমেষেই ফর্সা। টিভি থেকে পত্র-পত্রিকা ছেয়ে ফেলা এইসব বিজ্ঞাপনগুলির (Advertisement) উপর এবার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। এমনকী এমন বিজ্ঞাপন কোনও গণমাধ্যমে (Mass media) দিলে উক্ত সংস্থার উপর নেমে আসতে পারে শাস্তির খাঁড়া বলেই জানা গিয়েছে। এমন অভিযোগে নাম জড়ালে হতে পারে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (Fine)। সম্প্রতি এমন এক বিষয়কে উপজীব্য করেই একটি বাংলা ছবি (Bengali Movie) বানিয়েছিলেন টলিউডের তরুণ পরিচালক (Tollywood Director) অভিমুন্য মুখার্জি (Abhimanyu Mukherjee)। যে ছবির নাম ছিল 'টেকো (Teko)।' তাই এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই লেটেস্টলি বাংলাকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি।

মোটা থেকে রোগা হওয়া, চুল গজানোর ওষুধ কিংবা ফর্সা হওয়ার ক্রিম- এসবের চাহিদা এখন বাজারে প্রবল। কিন্তু বাজার চলতি ওষুধগুলি কতটা ক্ষতিকর তা যাচাই না করে ব্যবহার করে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনেন অনেকেই। টাকের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা চুল গজানোর চেষ্টায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন থেকে প্রতারিত হন। যা রীতিমত অপরাধ (Crime)। এ নিয়ে জল গড়ালে, তা কোথায় গিয়ে থামতে পারে, তা নিয়েই অভিমুন্য বানিয়ে ছিলেন 'টেকো।' এই ছবিতে মুখ্য চরিত্র অলকেশের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ঋত্বিক চক্রবর্তী (Ritwick Chakraborty)। আজ শুক্রবার জানা গিয়েছে, ১৯৫৪ সালের ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিজ (অবজেকশনেবল অ্যাডভারটাইজমেন্ট) আইনকে কড়া করতে সম্প্রতি সংশোধনী খসড়া বিল তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক (Health Ministry)। ২০২০ সালের সেই প্রস্তাবিত বিলের খসড়া নিজেদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেশবাসীর কাছে মন্ত্রক পরামর্শ বা আপত্তির কথা জানতে চেয়েছে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে। খসড়ায় বলা হয়েছে- ৭৮ রকমের অসুখ বা সমস্যা (আগে ছিল ৫৪টি) নিরাময়ে বিভ্রান্তিকর এই সব মনমোহিনী বিজ্ঞাপন কোনও গণমাধ্যমে দেওয়া যাবে না। বর্তমান সংস্থানে প্রথম দু’বার আইন লঙ্ঘনের শাস্তি যথাক্রমে ছ’ মাস ও এক বছরের জেল। জরিমানার কোনও অঙ্ক বলা নেই সেখানে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়ায় আইন লঙ্ঘনের শাস্তি প্রথম বার দু’বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে সন্দিহান। স্বাস্থ্যমহলের বড় অংশ অবশ্য কেন্দ্রের এহেন পদক্ষেপকে সাধুবাদই জানাচ্ছেন। এমতাবস্থায় অভিমুন্য নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "এটা তো আসলে ক্রাইম। তাই কেন্দ্র যদি এমন পদক্ষেপ নেয় তবে অলকেশের মত অনেকে প্রচণ্ড খুশিই হবেন। তাছাড়া আমার মনে হয় এটা অত্যন্ত ভালো এবং ঠিক একটা সিদ্ধান্ত।" তবে কি 'টেকো'র সাফল্য এটা? প্রশ্নে অভিমুন্য আরও বলেন, "টেকোর সাফল্য কিনা বলতে পারব না, তবে অলকেশের মত অনেকেই যেমন টাক এবং অন্যান্য সব বিষয় নিয়ে সমস্যায় ফেঁসে থাকে, তাঁদের লড়াইয়ের সাফল্য এটা।" আরও পড়ুন: টাক নিয়ে আর নয় 'টেকো'-'বালা ' চুলোচুলি, ট্রেলারই আলাদা করল জল- দুধ

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তাদের তরফে জানা গিয়েছে, গত দেড় বছরে এমন বহু পণ্য ও ওষুধের অবাস্তব বিজ্ঞাপন এবং তার কুফল সংক্রান্ত হাজারখানেক অভিযোগ জমা পড়েছে সরকারের কাছে। এরমধ্যে কেরালা (Kerala) ও তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu) দু’টি মৃত্যুর নজিরও রয়েছে। বছর দেড়েক আগে রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ যেসোনায়েকও জানান, ‘গ্রিভান্স এগেনস্ট মিসলিডিং অ্যাডভারটাইজমেন্ট’ পোর্টালে ওই অভিযোগগুলি দায়ের হয়েছে এবং এ ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিতে কেন্দ্র বদ্ধপরিকর। এরপরেই কয়েকটি অ্যালোপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ-ইউনানি ওষুধের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়। হরেক পণ্যের এসব চটকদার প্রচার তো ছিলই। বিজ্ঞাপনী বাজারে এর সঙ্গে ইদানীং যোগ হয়েছে এমন সব দাওয়াই, যা নাকি ম্যাজিকের (Magic) মতো নিরাময় ঘটায় ডায়াবিটিস, আর্থ্রাইটিস, এমনকী ক্যান্সারের। এইসব পণ্যের যাবতীয় বিজ্ঞাপনে এবার কঠোর ভাবে রাশ টানতে উদ্যোগী হল কেন্দ্র। এমন অবাস্তব ও মনভোলানো বিজ্ঞাপনী চমকের রমরমা বন্ধে আইন সংশোধন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।