দিল্লি, ২৬ জুন: ইজরায়েল এবং ইরানের (Israel-Iran War) যুদ্ধ যখন জোর কদমে চলছে, সেই সময় আয়াতোল্লা আলি খোমেইনি ( কোথায় গেলেন? ইরান যখন ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে শুরু করেছে, সেই সময় সে দেশের প্রধান ধর্মীয় গুরু কেন সামনে আসছেন না, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে খোমেইনির দেখা মিলছে না। ফলে কোথায় গেলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, তা নিয়ে গুঞ্জন উঠছে। ইজরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধের মাঝে শোনা যায়, ৮৬ বছরের ধর্মীয় গুরু কোনও গোপণ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর কাছে কোনও বৈদ্যুতিন জিনিসপত্র নেই। খোমেইনিকে কোনও বার্তা দিতে হলে, তা হাতে লিখে, তাঁর বিশ্বাসভাজনদের হাতে ধরাতে হচ্ছে বলেও শোনা যায়। গোপণ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে খোমেইনির আর কোনও খোঁজ মিলছে না। তিনি কোথায় গেলেন বলে নানা প্রশ্ন উঠছে।
খোমেইনি যখন নীরব, সেই সময় ইরানের ৩টি পরমাণু কেন্দ্রে আমেরিকা (US) বোমা ফেলে। যার প্রত্যুত্তরে ইরানও ড্রোন হামলা চালায় কাতারে থাকা মার্কিন সেনা শিবিরে। এত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যখন দেশে ঘটে যাচ্ছে, সেই সময় ইরানের প্রধান ধর্মগুরুর কেন কোনও বার্তা নেই বলে আন্তর্জাতিক মহলে উঠছে বিবিধ প্রশ্ন।
ইরানের কোনও সংবাদমাধ্যমের তরফেও খোমেইনির কোনও ভিডিয়ো বা ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রসঙ্গত খোমেইনির পরিস্থিতি সাদ্দাম হুসেনের মত করা হবে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওই মন্তব্যের পর থেকে ইরানের প্রধান ধর্মগুরুকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। ইজরায়েল বা আমেরিকা যাতে কোনওভাবে খোমেইনির খোঁজ না পায়, সে বিষয়ে তৎপর ইরান।
খোমেইনির অফিসের প্রধান আধিকারিক মেহদি ফাজ়ালেহিকে এ বিষয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের তরফে প্রশ্ন করা হয়। যার উত্তরে মেহেদি বিষয়টি খানিক এড়িয়ে যান। উত্তরে শুধু বলেন, 'আমাদের সকলের প্রার্থনা করা উচিত। সর্বোচ্চ নেতাকে রক্ষা করার দায়িত্ব যাঁদের উপর, তাঁরা নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর।'
ইরানের একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়, খোমেইনিকে নিয়ে দেশের মানুষ অত্যন্ত চিন্তিত। কোথায় তিনি? খোমেইনির যদি মৃত্যু হয়, তাহলে তাঁর শেষকৃত্য ঐতিহাসিকভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত বলেও মন্ত্বয করা হয়। তবে খোমেইনির অফিসের প্রধান আধিকারিক এ বিষয়ে মুখে রা কাটেননি।