Typhoon (Photo Credit: X)

Typhoon Kalmaegi: ধ্বংসস্তুপ সরতেই বেরিয়ে এল রহস্য। ভিয়েতনামের মধ্য উপকূলে আঘাত হানা টাইফুন কালমেগি ভয়াবহ ক্ষয় সৃষ্টি করেছে ঐতিহাসিক বন্দরনগরী হোই আন-এর সমুদ্র উপকূলে। টাইফুনের প্রভাবে প্রবল ঢেউয়ে উপকূলের বালির স্তর সরে গিয়ে হঠাৎই উন্মোচিত হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন এক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি সম্ভবত কাঠের তৈরি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ, যা চাম্পা রাজবংশ বানুয়েন রাজবংশের শুরুর দিকে সময়কালীন হতে পারে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী নগরী হোই আন ১৫শ থেকে ১৯শ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার সেই সমুদ্রবাণিজ্যের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

টাইফুনের কারণে তীব্র ক্ষয়ের ফলে উপকূল থেকে ২ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত বালির স্তর সরে গেছে, যার ফলে দেখা মিলেছে কাঠের ফ্রেম, চীনামাটির টুকরো এবং ধাতব শিল্পকর্মের। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় প্রত্নতত্ত্ব সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ববিদদের একটি যৌথ দল সেখানে ইতিমধ্যে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন,প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার কারণে এই স্থানটি আবার বালির নিচে ঢেকে যেতে পারে, তাই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই জাহাজাটি থেকে নমুনা উদ্ধার ও নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন করতে হবে।

দেখুন উদ্ধার হওয়া সেই প্রাচীন জাহাজটিকে

প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, চিনা পোর্সেলিন, ভিয়েতনামী সিরামিক, ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় মসলা জাতীয় শিল্পকর্ম সেখানে থাকতে পারে। এখন 3D স্ক্যানিং ও সংরক্ষণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে, কারণ লবণাক্ত জল ও ক্ষয়প্রবণতা প্রাচীন সেই জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলির স্থায়িত্বকে নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার হোই আনের বাণিজ্যিক সংযোগ, চিন, জাপান ও ইউরোপের সঙ্গে সেই সম্পর্কিত ইতিহাসকে নতুনভাবে আলোচনায় আনতে পারে।