Ghost Story. (Photo Credits:X)

Bhoot Chaturdashi 2025: আজ ভূত চতুর্দশী। বাঙালির ভূত দিবস। ভয় পাওয়ার দিন। একটু পরেই ঘরে চোদ্দ প্রদীপ জ্বেলে শুরু হয় ভূত তাড়ানোর কাজ। তার আগে চলুন পড়ে নেওয়া যাক পাঁচটা সত্য়ি ভৌতিক ঘটনা। যেটা ঘটেছিল আমেরিকার বড় শহর নিউ ইয়র্কের এক বাড়িতে (Amityville Horror)। Most Haunted Places in the World-খবরটা দুনিয়ার প্রায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এটা কেন ঘটেছিল, তা আজও রহস্য। ভয়ও কখনও কখনও একটা খবর হয়ে ওঠে। আর সেই খবর যদি হয় একেবারে বাস্তব, তাহলে তার ছায়া বহু বছর ধরেই লেগে থাকে মানুষের মনে। এ এমন এক বাড়ির গল্প, যেখানে খুনের রক্ত শুকিয়ে যাওয়ার পরও নাকি কেউ ঘুমোতে পারেনি।

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাস্তব বাড়ি

ভূত চতুর্দশীর রাতে অদ্ভুত এক কৌতূহল কাজ করে। সত্যি কি ভূত বলে কিছু আছে?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা আজ পৌঁছে গেছি সেই বাড়িতে, যেটাকে বলা হয় পৃথিবীর 'সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাস্তব বাড়ি'। খবরের কাগজে এসেছে, সিনেমা হয়েছে, বই লেখা হয়েছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, এখনও কেউ নিশ্চিন্তে এখানে একরাত কাটাতে পারেনি।আমেরিকার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ছোট্ট শহর 'আমিটিভিল'। একসময় এই বাড়ির ভেতরে ঘটে গিয়েছিল এমন এক হত্যাকাণ্ড, যার প্রতিধ্বনি আজও নাকি শোনা যায় দেওয়ালের ভেতর থেকে। যারা এখানে থেকেছেন, তাঁরা বলেন, এই বাড়ির নাকি নিজস্ব একটা আত্মা আছে, আর সেই আত্মা কাউকেই সহজে থাকতে দেয় না।

আমিটিভিলের রহস্য

নিউইয়র্কের শান্ত শহর আমিটিভিল। ১৯৭৪ সালের নভেম্বরের রাত। এক পরিবারের ছয়টি নিথর দেহ, আর এক ছেলের মুখে শিউরে ওঠা স্বীকারোক্তি,“আমি করিনি, ওরা আমায় বলেছিল করতে।"সেই রাতের পর থেকে, ওই বাড়িটা শুধু একটা ঠিকানা নয়,

এটা এক অভিশাপের নাম। যা আজও নাকি ফিসফিস করে বলে,''এখান থেকে বেরিয়ে যাও…"।

১) ডি ফিও পরিবারের অভিশাপ

১৯৭৪ সালের এক ঠান্ডা নভেম্বরের রাত। আমেরিকার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ছোট্ট শহর 'আমিটিভিল'। শহরের ১১২ ওশান অ্যাভিনিউ নামের সেই বাড়ি থেকে ভোররাতে হঠাৎ গুলির আওয়াজ আসে। সকালে পুলিশ বাড়ির ভেতরে যা দেখে তাতে গোটা আমেরিকা তমকে যায়। এই বাড়ির বাসিন্দা ডি ফিও পরিবার এর ছয়জন সদস্য গুলি খেয়ে মারা গিয়েছেন। তাদের সবার শবদেহ নিজের বিছানায় ঘুমনোর মত কায়দায় পড়েছিল। অভিযোগ ওঠে সেই পরিবারেরই ছেলে রোনাল্ড 'বুচ' ডি ফিও জুনিয়র এই কাজ করে। সে পরে বলে, রাতে নাকি “একটা আওয়াজ” তাকে আদেশ দেয় সবাইকে মেরে ফেলতে! রোনাল্ড আজীবন জেলে কাটায়, কিন্তু ওই বাড়ির নাম তখন থেকেই এক অভিশাপের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

২) লাট্‌জ পরিবারের ২৮ দিনের দুঃস্বপ্ন

এক বছর পর, ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে, নতুন দম্পতি জর্জ ও ক্যাথি লাট্‌জ তিন সন্তানকে নিয়ে সেই বাড়িতে উঠলেন। তারা জানতেন, এই বাড়িতে খুন হয়েছিল, কিন্তু দাম কম আর জায়গা ভালো, তাই থেকে যান। প্রথম রাত থেকেই অদ্ভুত সব ঘটনা শুরু হয়। দরজা হঠাৎ খুলে যায়, জানালা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, বাতাসে কেমন একটা পচা গন্ধ। রাত ৩টা ১৫ মিনিটে (যখন ডি ফিও খুন হয়েছিল) জর্জ প্রতিদিন ঘুম ভেঙে যায়। একদিন বাড়িতে পাদ্রী এসে আশীর্বাদ দিতে গিয়ে শোনেন কারও কণ্ঠ,'Get out!'বেরিয়ে যাও এখান থেকে! দেওয়ালে নাকি সবুজ আঠার মতো কিছু গলতে থাকে, শিশুরা জানলার বাইরে লাল চোখওয়ালা ছায়া দেখে। একদিন ক্যাথি লাট্‌জ বলেন, ঘুমের মধ্যে নাকি তিনি হাওয়ায় ভেসে গিয়েছিলেন। মাত্র ২৮ দিন পর, তারা সব ফেলে পালিয়ে যান।