জ্বলছে নেপাল (ছবিঃX)

Nepal Protest Update: কয়েক ঘণ্টার উত্তাল, অশান্ত, হিংসাত্মক আন্দোলনের পর নেপালের কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটিয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। ফেসবুক, গুগল নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ওলিকে পদত্যাগে বাধ্য করিয়েছে। তার জন্য ঝরেছে ২০টি তরতাজা প্রাণ। প্রধানমন্ত্রী ওলি ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়ার পরেও অবশ্য নেপালে আন্দোলনকারী-রা হিংসা থামাননি। দেশের সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস, সুপ্রিম কোর্ট জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নেপালের পর্যটনের স্তম্ভ বিভিন্ন বড় হোটেলও ধ্বংস করে। এমন কঠিন সময়ে নেপালের সেনা দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসাল সুশীলা কারকি-কে। সুশীলাই হলেন নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান মহিলা বিচারপতিও ছিলেন।

গতকাল, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন সুশীলা কারকি

গতকাল, শুক্রবার শপথ নেন নয়া প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল সুশীলা কারকিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কারকি শপথ নিলেও, তাঁর সরকারে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্ত্রীকে সংযুক্ত করা হয়নি। তবে সুশীলা-কে ক্ষমতায় দেখা যাবে মাস চারেক।

প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ সুশীলা কারকির

আগামী ৫ মার্চ নেপালে নির্বাচন

এরপরই আগামী বছর ৫ মার্চ নেপালে সংসদীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যেটা এক বছরের মধ্যে করতে পারেনি। এর মধ্যে দেশকে শান্ত ও স্বাভাবিক করাই নয়া প্রধানমন্ত্রীর কাজে আসল চ্যালেঞ্জ। আন্দোলনকারীদের একাংশ এখনও খুশি নন। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য পুরো সিস্টেমেরই বদল চাইছেন নেপালের জেন জি আন্দোলনকারীরা। শুধু কেপি ওলি শর্মা, বা তার সরকারের সদস্যরা নন, নেপালের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতিতে জড়িত গোটা সিস্টেম।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি

তাই সবটা বদলের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলবে হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তবে নেপালের সেনাবাহিনী আর কোনওরকম অশান্তি চাইছেন না। কাঠমান্ডুর রাস্তায় বহু সেনাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে। মানুষজনের ভিড় কম। দোকানপাট, বাজারও পুরোপুরি খোলেনি। তবে ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশায় প্রশাসন। এখনও কাঠমান্ডুর কিছু জায়গায় কার্ফু জারি আছে। গণপরিবহণ পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।