দু’দিনের ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি  জিংপিং; তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক
(Photo Credits: PTI)

নতুন দিল্লি, ৯ অক্টোবর: ভারত (India) সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং (Chaina President Xi Jinping)। দু’দিনের জন্য ভারতে আসছেন তিনি। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে (Tamilnadu's Chennai) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে বেসরকারি বৈঠকে (ইনফরমাল সামিট) (Informal Summit) বসবেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। বেসরকারি সফর বলে তাঁর সফরসঙ্গী থাকবেন সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্যরাও। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ের মালাপ্পুরমে দু’জনের বৈঠক হবে।

এই প্রথম নয়, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বেসরকারি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। এর আগে ২০১৮ সালে চিনের ইউহানে মোদী-জিনপিং-এর বৈঠক হয়েছিল। জানা গিয়েছে, বেসরকারি সফর বলে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হবে না। যৌথ কোনও বিবৃতি বা সাংবাদিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম। দ্বিপাক্ষিক, এশিয়ার আঞ্চলিক এবং বিশ্বের নানা বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনা হবে বলে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, জিনপিংয়ের সফরের বিষয়ে জানিয়ে ভারতে চিনের রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডং বলেছেন, ‘‘১১ ও ১২ অক্টোবর চিনের প্রেসিডেন্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চেন্নাইয়ে বৈঠক করবেন। আশা করি দু’জনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত আলোচনা ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” আরও পড়ুন: Nobel Prize 2019: চিকিৎসাশাস্ত্রে এবার নোবেল পাচ্ছেন তিন বিজ্ঞানী-জি. কেলিন জুনিয়র, গ্রেগ সেমেঞ্জা ও পিটার র‌্যাটক্লিফ

উল্লেখ্য, দু’দেশের মধ্যে যে সব বিষয়ে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেগুলি মেটানোর চেষ্টা করা হবে এই বৈঠকে। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ‘সব পরিবেশের বন্ধু’বলে পরিচিত চীন। মাসুদ আজহারকে (Masud Azahar) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা হোক, কিংবা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যের বিষয়—চীন বরাবরই বিরোধিতা করে এসেছে ভারতের। আন্তর্জাতিক অধিকাংশ ইস্যুতে দিল্লির বিপক্ষে এবং ইসলামাবাদের পক্ষে দাঁড়ানোই বেজিংয়ের দস্তুর হয়ে উঠেছে। ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যুতেও রয়েছে দু’দেশের মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধের আবহ। তার উপর গত ৫ অগস্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পরেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে ভারতের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি-বেজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও তার আঁচ লেগেছে।

(আনন্দবাজার পত্রিকার খবর অনুযায়ী)