দিল্লি, ৮ জুলাই: বাবা ভাঙার (Baba Vanga) ভবিষ্যতবাণীর জেরেই কি বার বার কেঁপে উঠছে জাপান (Japan)? জাপান জুড়ে মহাপ্রলয় হবে বলে বাবা ভাঙা যে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন, তা কি একটু একটু করে ফলতে শুরু করেছে? এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, গত সপ্তাহের বিভিন্ন ঘটনাবলীর কারণে। রিপোর্টে প্রকাশ, গত ৩ সপ্তাহে প্রায় ষোলোশ বারকেঁপে উঠেছে জাপান (Japan Earthquake)। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেঁপে দক্ষিণ জাপান। দক্ষিণ জাপানের যে বিভিন্ন দ্বীপ রয়েছে, সেখানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে একের পর এক কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রায় ১৬০০ বার কম্পনের জেরে জাপানের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে। অর্থাৎ বাবা ভাঙা ২০২৫ সাল নিয়ে জাপানের জন্য যে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন, তার দিকে এশিয়ার এই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠছে।
তবে গত ৩ সপ্তাহ ধরে যে ছোট ছোট কম্পন হয়েছে, তার জেরে ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি। কিংবা প্রাণহানিরও কোনও খবর আসেনি। তবে কেঁপেই চলেছে জাপানের বিভিন্ন অংশ। এই ছোট ছোট কম্পনগুলি কখন বড় আকার নেবে, তার কোনও খবর নেই। ফলে বহু মানুষকে সরানো হচ্ছে। যে ,সমস্ত জায়গায় কম্পন অনুভূত হচ্ছে, সেই সব অঞ্চল থেকে ইতিমধ্যেই কয়েকশ মানুষকে সরানো হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ৮৯ জনকে অকুসেকি থেকে সরিয়েছে প্রশাসন। ৪৪ জনকে সরানো হয়েছে কাগুসিমা থেকে রবিবার। ১৫ জনকে সরানো হয়েছে একটি দ্বীপ থেকে। সবকিছু মিলিয়ে ভূকম্পপ্রবণ এলাকা থেকে যত শিগগিরই সম্ভব মানুষজনকে সরানো হচ্ছে। এই দ্বীপগুলির মধ্যে কাগোসিমা সবচেয়ে বেশিবার কেঁপেছে এখনও পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নীচে যে সমস্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে, সেই সমস্ত দানবের ঘুম ভাঙছে। আগ্নেয়গিরির মুখ ফেটে লাভা উদগীরণও শুরু হতে পারে সমুদ্রের নীচে। তার জেরেই এই ধরনের কম্পন অনুভূত হচ্ছে বার বার। তবে কখন কী হবে, তার কোনও খবর নেই এখনও পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের কাছে। তাঁদের কথায়, ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে, তার কোনও ধারনা এই মুহূর্তে নেই।
২০২৩ সালে এই ধরনের পরিস্থিতি জাপানে একবার তৈরি হয়। ওই সময় ৩৪৬বার কম্পন ধরা পড়ে জাপানে। জাপানের আবহাওয়া দফতরের তরফে সেবার ওই কম্পনের পরিমাপ সম্পন্ন করে তা মানুষের সামনে আনা হয়। ২০২৩ সালের এক বছরের মধ্যে ফের মুহূর্মুহু কেঁপে উঠতে শুরু করেছে জাপান।