Nobel Peace Prize: Maria Corina Machado winner. Trump Denied again. (Photo Credits:X)

Nobel Peace Prize 2025: অনেক চেষ্টা করেও এবারও নোবেল (Nobel Prize 2025) জেতা হল না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। ট্রাম্পকে এবারও খালি হাতে ফিরিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হল ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাছাদো ( Maria Corina Machado)-কে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicolas Maduro)-র বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশের গণতন্ত্র ফেরানোর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসাবে পুরস্কার পেলেন মাচাদো। যিনি গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোর কাছে হারের পর থেকে দেশছাড়া। ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে মাদুরোর ব্যাপক অনিয়ম, রিগিং করেন বলে অভিযোগ। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। যাদেরর মধ্যে ছিলেন ২৪৪ জন ব্যক্তি ও ৯৪টি সংস্থা। শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন দুনিয়ার ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক, ভ্যাটিকনের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনিত হলেও, শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি।

১০ ডিসেম্বর ওসলোতে দেওয়া হবে পুরস্কার

আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের ওসলো সিটি হলে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হবে। এটি নোবেল ফাউন্ডেশনের ঐতিহ্য অনুসারে অ্যালফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিজয়ীকে পদক, ডিপ্লোমা এবং ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি টাকার সমতূল্য) নগদ পুরস্কার প্রদান করা হবে মারিয়া কোরিনা মাচাদো-কে।

কেন নোবেল পেলেন না ট্রাম্প

গোটা দুনিয়া এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের দিকে তাকিয়ে ছিল। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবার নোবেল পুরস্কার জেতার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে ছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, তিনি যেহেতু ভারত-পাকিস্তান সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৭টি যুদ্ধ থামিয়েছেন, তাই এবার তাঁকে নোবেল দিতেই হবে। পাকিস্তান, ইজরয়েল সহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ট্রাম্পের অস্কার জয়ের পক্ষে সওয়াল করেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর দাবি ও তার প্রক্রিয়া নিয়ে নিশ্চিত হতে পারল না নোবেল কমিটি। প্রত্যাশিতভাবেই ট্রাম্প এনার নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে চলেছিলেন। কারণ তিনি আগেই ক্ষোভ জানিয়ে বলেছিলেন, 'জানি আমি যতই যুদ্ধ থামাই, ওরা আমায় নোবেল দেবে না।" প্রসঙ্গত, বারাক ওবামা সহ চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অতীতে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন।" এবার ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিল পাকিস্তান।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ভেনেজুয়েলান নেত্রী মাচোদোকে

এক নজরে এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মারিয়া মাছাদো--

মারিয়া কোরিনা মাছাদো (María Corina Machado): ১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন মারিয়া কোরিনা। তিনি একজন ধনী পরিবারের সন্তান। তার বাবা হেনরিকে মাচাদো একজন ইস্পাত ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মা কোরিনা পারিস্কা একজন মনোবিজ্ঞানী। তিনি ভেনেজুয়েলিয়ান স্বাধীনতা-সংগ্রামের বংশধর।

শিক্ষা ও পেশা: ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একজন মা এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে পরিচিত।

রাজনীতিতে প্রবেশ: ২০০২ সালে সুতান্তা ৯৯ নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন, যা ২০০৪ সালের হুগো চাভেজের বিরুদ্ধে রেফারেন্ডামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু।

জাতীয় সংসদ সদস্য: ২০১০ সালে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যোগ দেন, যেখানে রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি চাভেজ-মাদুরো শাসনের অর্থনৈতিক সংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কট্টর কণ্ঠস্বর ছিলেন।

২০১৪-এর সংকট: মাদুরো সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আমেরিকান সংস্থা OAS-এ বক্তৃতা দেন, যার ফলে তাকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এটি ব্যাপক বিক্ষোভের সূচনা করে।

ভেন্টে ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠা: ২০১২ সালে এই লিবারেল রাজনৈতিক দল গঠন করেন, যার জাতীয় কো-অর্ডিনেটর তিনি। দলটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের পক্ষে কাজ করে।

২০২৩-এর প্রাইমারি জয়: বিরোধী প্রাইমারিতে ৯২% ভোট পেয়ে জয়ী হন, কিন্তু মাদুরো সরকার তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করে। তিনি তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গনজালেজ উরুতিয়াকে সমর্থন করেন।

২০২৪ নির্বাচনের নায়ক: জুলাইয়ের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাদুরোকে পরাজিত করার দাবি তুলে লড়াই চালিয়ে যান। তিনি দেশজুড়ে রাস্তায় ঘুরে প্রচার করেন এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থককে একত্রিত করেন, যদিও ফলাফলকে জালিয়াতি বলে অভিহিত করা হয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী। ২০১৮ সালে বিবিসির '১০০ উইমেন'-এ স্থান পান এবং ২০২৫ সালে টাইম ম্যাগাজিনের 'বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ জেনেভা সামিটে 'কারেজ অ্যাওয়ার্ড' পান এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

সাহসী লড়াই ও ভবিষ্যৎ: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে গ্রেফতার হন এবং লুকিয়ে থেকে প্রতিরোধ চালিয়ে যান। তিনি ভেনেজুয়েলাকে 'অপরাধের কেন্দ্র' থেকে 'শক্তি কেন্দ্র' বানানোর স্বপ্ন দেখেন, যেখানে তেলের সম্পদ বেসরকারিকরণ করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করা যাবে। তার নেতৃত্ব ভেনেজুয়েলিয়ানদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে।