দিল্লি, ৯ জুলাই: গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) ছেড়েছেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশের (Bangladesh Former PM) প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে (India) হাজির হন। সেই থেকে তিনি দিল্লিতেই রয়েছেন। শেখ হাসিনা দিল্লিতে থাকাকালীন একেবারে গোপণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। কোনওভাবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ যাতে কেউ না পান, সেই ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন তিনি। ভারতে থাকাকালীন অবস্থায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবার ফের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার একটি পুরনো অডিয়ো রেকর্ড (Audio Record) ফাঁস হয়। সেখানে শেখ হাসিনাকে একটি বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শোনা যায়। বিক্ষোভকারী, চক্রান্তকারীদের খুঁজে বরে করে গুলি চালানোর নির্দেশ বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: Sheikh Hasina: শেখ হাসিনার কারাদণ্ড, জেল হেফাজতের নির্দেশ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর
শেখ হাসিনার যে অডিয়ো রেকর্ডিং ফাঁস হয়েছে, শুনুন ....
ফিরে দেখা জুলাই ২০২৪,
গুলির নির্দেশ দেয়া শেখ হাসিনার অডিও রেকর্ডের সত্যতা পেয়েছে বিবিসি বাংলা pic.twitter.com/XLe1erJurx
— Voice of Gen-Z (@VoGen_Z) July 9, 2025
আদতে কি শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের খুঁজে বের করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন?
সাম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ওই রেকর্ডিংয়ে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই এবং আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যে ছাত্র আন্দোলন চলছিল, সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেন বিক্ষোভকারীদের খুঁজে বের করতে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারীদের খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে 'প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের' নির্দেশ শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন বলে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবরে প্রকাশ পায়।
যে অডিওটি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে, সেখানে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, বিক্ষোভকারীদের যেখানেই পাবে, সেখানে গুলি করবে। অর্থাৎ বিক্ষোভকারীদের দেখা মাত্রই গুলি চালানোর নির্দেশ শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন বলে অডিয়ো রেকর্ডের মাধ্যমে সামনে আসে।
যদিও আওয়ামী লিগের তরফে হাসিনার পক্ষে ওঠা ওই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার আইনজীবীদের পালটা দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই, অগাস্ট মাসে কোনও আন্দোলন বা বিক্ষোভ হয়নি। ওই সময় গোটা বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনার জেরে। ফলে যে অভিযোগগুলি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেও দাবি করা হয় মুজিব-কন্যার আইনজীবীদের তরফে।