WB Weather 3107 (Photo Credit: X@Imdkolkata)

গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বায়ুস্তরের উপরিভাগে তৈরি ঘূর্ণাবর্ত এবং সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার কারণে দক্ষিণবঙ্গে আগামী কাল পর্যন্ত এবং উত্তরবঙ্গে আগামী দু দিন বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোন কোন জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে । গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের উপরে যে ঘূর্ণাবর্ত ছিল, তা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন গাঙ্গেয় বঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি অবস্থান করছে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আওহাওয়া দফতর। এ ছাড়া মৌসুমি অক্ষরেখা আপাতত রাজস্থানের বিকানের, রাঁচী, দিঘা বরাবর উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুইয়ের প্রভাবে আগামী দু’দিন বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। কোনও কোনও জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই বৃষ্টি হয়েই চলেছে। পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে বর্ষা। বুধবার গভীর রাতেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহর ও শহরতলির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মাঝেমধ্যেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টিও হচ্ছে।

গত রাত থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত শহর কলকাতায় সব চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দত্তা বাগান এলাকায় ৫৭ মিলি মিটার, বেলগাছিয়া য় ৫৩ মিলি মিটার, বীরপারা ৫০ মিলি মিটার। ওই সময় পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার অন্যান্য এলাকায় ৮ মিলি মিটার থেকে ৪০ মিলি মিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে পুর সভা সূত্রে জানা গেছে।

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে ভরা বর্ষায় এখনই দুর্যোগ থামার সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহে ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার এই জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়বে। ওই দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দুর্যোগ চলবে।

বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ০.৯ ডিগ্রি কম।গতকাল শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৫ ডিগ্রি , যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ ডিগ্রি কম। আবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৭ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৯ ডিগ্রি কম। বৃষ্টির জেরে শহর কিছুটা স্বস্তি পেলেও আর্দ্রতার মাত্রা রীতিমতো অস্বস্তিকরই রয়েছে। ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।