কালীপুজোর রাতে কালী মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটেছিল কাকদ্বীপে (Kakdwip)। সেই মুর্তি প্রিজন ভ্যানের তোলার ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। গোটা ঘটনা নিয়ে রাজ্যে পুলিশ প্রশাসন ও শাসক দলের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলেছিল বিজেপি। এমনকী যে ঘটনাটি ঘটে তা নিয়ে তীব্র নিন্দাও করেন সাধারণ মানুষ। তবে এই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত নারায়ণ হালদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, মদ্যপ অবস্থায় সেই নাকি মূর্তি্ ভেঙেছে। এদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এই গ্রেফতারির পরেই অভিযোগ করেন, ধৃত যুবক নাকি বিজেপির যুব মোর্চার নেতা ও আরএসএসের সক্রিয় কর্মী।
কাকদ্বীপের ঘটনায় তৃণমূল-বিজেপির দ্বন্দ্ব
এই দাবি সামনে আসতেই কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় বিজেপি। তবে সম্প্রতি একটি প্রথম সারীর নিউজ চ্যানেলে নারায়ণ হালদারের বাবা জানান, “তাঁর ছেলে ও পরিবারের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগাযোগ কোনওদিনই ছিল না। বরং তাঁর বাবার আমল থেকে গোটা পরিবার তৃণমূল করছে। অভিযুক্তের দাদু একসময়ে তৃণমূলের হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়েছে। সেই বাড়ির ছেলে বিজেপি করে না। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই নাকি তৃণমূলকেই সমর্থন করে এসেছে এবং ভোটও দিয়ে এসেছে”। নারায়ণের বাবার এই দাবি সামনে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংশনয় বিজেপি নেতার
রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে কাকদ্বীপে এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করে বিজেপি। সুকান্ত এদিন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলায় এইসব ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। কালীমূর্তি ভাঙা এবং সেই মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা এই রাজ্যেই হচ্ছে। এদিকে যে গ্রেফতার হয়েছে, তাঁকে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।
দেখুন সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য
Kakdwip, West Bengal: On the idol vandalism incident, Union MoS Sukanta Majumdar says, "The Kakdwip police administration is trying to cover up the incident. Using a prison van to transport the broken idol is a disrespectful act..." pic.twitter.com/IbjSq1M5ia
— IANS (@ians_india) October 26, 2025
তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নারায়ণের পরিবার
সুকান্ত আরও বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা হচ্ছিল। ধৃত ব্যক্তির বাবা আসল সত্য ফাঁস করেছে। এলাকাবাসীদের দাবি, এই পরিবার বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার ঘনিষ্ঠ। ফলে তৃণমূল নিজের ঘাড় থেকে দায় ছাড়তে গুজব রটাচ্ছে। ফলে আমাদের সন্দেহর রয়েছে, পুলিশ আদৌ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে কিনা। সমস্ত ঘটনারই যদি তদন্ত এনআইএ, সিবিআই করে, তাহলে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় পুলিশকে কেন পোষা হচ্ছে? এরা শুঘু প্রতিমাসে মাইনে নেওয়ার জন্যই আছে?