Soumendu Adhikeri: শুভেন্দুর কটাক্ষের জের, কাঁথি পুরসভার প্রশাসকের পদ থেকে অপসারিত সৌম্যেন্দু অধিকারী
সৌমেন্দু অধিকারী (Photo Credits: Social Media)

কাঁথি, ৩০ ডিসেম্বর: রবিবার ডায়মন্ডহারবারের সভা থেকে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাড়িতে পদ্ম ফোটাতে পারোনি। এবার মঙ্গলবার খড়দার সভা থেকে পাল্টা আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু। তিনি বলেন,  ভাইপো বলছে, লজ্জা করে না বাড়িতে ফোটাতে পারনি। আমার বাড়ির লোকেরা পদ্ম ফোটাবে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে ঢুকেও পদ্ম ফোটাব’। এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল, তবে অভিষেকের কটাক্ষের জবাবে শুভেন্দুর মন্তব্যের পরেই কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ভাই সৌম্যেন্দুকে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে অধিকারীদের বিরোধী পক্ষ অখিল গিরি ঘনিষ্ঠ সিদ্ধার্থ মাইতিকে।

এই প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কাঁথির বর্তমান প্রশাসনিক বোর্ড ভেঙে দেওয়ার কারণেই চেয়ারম্যান-সহ বাকি সদস্যদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা পাননি বলেই জানিয়েছেন সৌম্যেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সূত্রের খবর, দাদা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই ভাই সৌম্যেন্দুর আচরণে পরিবর্তন এসেছিল। তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে খড়দার সভায় শুভেন্দুর মন্তব্য। অধিকারী পরিবারের আর এক ভাই দিব্যন্দু অধিকারী তমলুকের তৃণমূল সাংসদ। এসব রাজনৈতিক তরজা নিয়ে তাঁকেও কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। মেদিনীপুরে অমিত শাহর জনসভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর মেদিনীপুরে সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় অধিকারী বাড়ির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পূর্বমেদিনীপুরের জেলা সভাপতি তথা কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী জানান, পায়ের অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি সভায় থাকছেন না। তবে কাঁথি পুরসভার প্রশাসক সৌম্যেন্দু অধিকারীও (Soumendu Adhikeri) তৃণমূলের সভা এড়িয়েছেন। আরও পড়ুন-Basudeb Das Baul Performed Mamata’s Rally: শাহকে আপ্যায়ণের পর মমতার জনসভায় গাইলেন বাসুদেব দাস বাউল, দেখুন ভিডিও

অন্যদিকে শুভেন্দুর কটাক্ষ শুনে মর্মাহত প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেছেন, “শুভেন্দুর নীচতা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ওর ঔদ্ধত্য খুব বেশিদিন থাকবে না। ওর কান্নার সুর বেরোবে।” এদিকে মেদিনীপুরে সংগঠনের শক্তি ধরে রাখতে রাজ্য নেতৃত্ব অখিল গিরির উপরে ভরসা রাখছে। সঙ্গে চলছে গিরি শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি করার কাজও। তবে অখিল গিরি অসুস্ত হয়ে পড়ায় ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন না তৃণমূলনেত্রী।