ভারত সরকারের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গোটা দেশে মাছ পুনরুৎপাদনের জন্য পূর্ব উপকূলের মৎস্যজীবীদের ১৫ ই এপ্রিল থেকে ১৪ ই জুন পর্যন্ত এবং পশ্চিম উপকূলের মৎস্যজীবীদের পয়লা জুন থেকে ৩১ শে জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। তাই রাজ্য সরকারের তরফে এই দু মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় মৎস্যজীবী পরিবার পিছু মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয় সমুদ্র সাথী প্রকল্পে। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে মৎস্যজীবীরা সেই সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম। মৎস্যজীবী পরিবার পিছু মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে দু মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমুদ্র সাথী প্রকল্পে যে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে সেই অর্থ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম। পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের নিবন্ধীকরণ ও পরিচয় পত্র দেওয়া নিয়ে রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে মৎস্যজীবী ফোরাম।
কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিলন দাস বলেন, এর আগে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের যৌথভাবে সঞ্চয় ও ত্রাণ প্রকল্পের আওতায় ৩০০০ টাকা করে প্রতিমাসে দেওয়ার কথা থাকলেও তা ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিলন বাবু। এর প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের সংগঠন দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের দাবি মত ২০২৪ -২৫ অর্থ বর্ষের রাজ্য বাজেটে দুমাস সামুদ্রিক মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য মৎস্যজীবী পরিবার পিছু মাসিক ৫ হাজার টাকা ,মোট ১০ হাজার টাকা দেবার কথা ঘোষণা করা হয় বলে মিলন বাবু জানিয়েছেন। তবে আজ পর্যন্ত সে টাকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন মিলন বাবু। এর ফলে সামুদ্রিক মৎস্যজীবীরা চরম সংকটের মুখে পড়েছে ন বলে মন্তব্য করেন মিলন বাবু । বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মৎস্য দপ্তর কে বারবার চিঠি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোন সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ করেন মিলন বাবু।
সমুদ্রে দু মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় মৎস্যজীবী পরিবার পিছু রাজ্য সরকারের মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও মৎস্যজীবীরা তা পাচ্ছেন না এই অভিযোগ তুলেছে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম। #কাশফিন pic.twitter.com/uybUpvZ8hc
— Akashvani Kolkata (@airnews_kolkata) July 3, 2025
মিলন দাস বলেন- অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ওই সময়ে সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে থাকে। অবিলম্বে রাজ্যের প্রত্যেক সামুদ্রিক মৎস্যজীবীকে সমুদ্র সাথী প্রকল্পের দশ হাজার টাকা করে মোট কুড়ি হাজার টাকা প্রদানের দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রকৃত সামুদ্রিক মৎস্যজীবীদের সরকারি নিবন্ধীকরণ ও পরিচয় পত্র প্রদানের দাবি জানিয়েছেন মিলন বাবু। দাবি না মেটানো হলে মৎস্যজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মিলন বাবু। রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী কে সমুদ্রসাথী প্রকল্প সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে বহু নাম নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখে শীঘ্রই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।