বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন রাজীব কুমারের, শুনানি মঙ্গলবার
প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। ফাইল ছবি। ((Photo Credits: IANS/File)

কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর:  Saradha Chit Fund Scam- সোমবার সকালে বারাসত আদালতে (Barasat Court) আগাম জামিনের আর্জি জানালেন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। রাজীব কুমারের জামিনের আর্জি-র শুনানি আগামিকাল, মঙ্গলবার। ২৪ ঘণ্টা নিউজ চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে এই খবর। আজ, দুপুর ২টোর মধ্যে রাজীর কুমারকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির করতে হবে জানিয়ে দেয় সিবিআই (CBI)। সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হাজিরা না দিলে বিকেলেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন রাজীব কুমার নিজেকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন? সিবিআই তার বাড়িতে গিয়েও খোঁজ পাইনি।

শনিবার সিবিআই-র (CBI) হাজিরা এড়িয়ে এক মাসের ছুটি চেয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমার। তবে তাঁকে সশরীরে দেখা যায়নি। এবার তাঁর খোঁজ পেতে রবিবার বিকেলে নবান্নে হাজির হলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের ৩ জন প্রতিনিধি। ২৪ ঘণ্টার খবর অনুযায়ী তাঁদের হাতে ছিল ৪টি চিঠি। দুটি ডিজিকে চিঠি দেন সিবিআই কর্তারা। ছুটির দিন থাকায় মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব সোমবার চিঠি দেওয়া হবে। আরও পড়ুন-গোদাবরীতে নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির

ছুটির দিন ঠিক ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ নবান্নে হাজির হন সিবিআই-র ৩ আধিকারিক। সূত্রের খবর, আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের অবস্থান সম্পর্কে জানতেই নবান্নে ডিজিপি, মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিতে যান সিবিআইয়ের প্রতিনিধি। তাঁদের হতে ছিল ৪ টি চিঠি। মুখবন্ধখামে ৪টি চিঠি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিকে দিতে গিয়েছিল সিবিআই। রাজীব কুমার সংক্রান্ত চিঠি কিনা, তা বলতে চাননি সিবিআই প্রতিনিধিরা। প্রথমে নবান্নের সামনে প্রায় ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সিবিআইয়ের প্রতিনিধিদের। এরপর ওই দুই আধিকারিককে নবান্নের ভিতর নিয়ে যাওয়া হয়। খানিকক্ষণ দরজায় দাঁড়িয়ে থাকার পর নবান্নের ভিতরে ঢোকার অনুমতি পান সিবিআই প্রতিনিধিরা। ৫ মিনিট পরেই বেরিয়ে আসেন তাঁরা। সিবিআইয়ের প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ডিজিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) রাজীব কুমারের গ্রেফতারির ওপর রক্ষাকবচ তুলে নেয়। তার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে সিবিআই হানা দেয় তাঁর বাড়িতে। বিকেল পৌনে পাঁচটা নাগাদ রাজীব কুমারের সরকারি বাসভবন ৩৪, পার্ক স্ট্রিটে পৌঁছন সিবিআইয়ের দল। শনিববার তাঁকে সকাল ১০টায় সিবিআই দফতরে হাজির হত বলে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি হাজির হননি। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মধুমতি মৈত্র রায়ে জানিয়ে দেন গ্রেফতারির বিরুদ্ধে এখনও রক্ষাকবচ বজায় রাখলে তা তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হবে। মধুমতি মৈত্র জানিয়ে বলেন, "রাজীব কুমার সিট-(SIT)-র এক জন অন্যতম সদস্য। তিনি তদন্তের স্বার্থে জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁকে সিবিআই টার্গেট করেছে, এই অভিযোগ আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।"