আজ স্বাধীনতা সংগ্রামী, জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর ৯৪ তম আত্ম বলিদান দিবস (Pritilata Waddedar Death Anniversary)। ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারত কে স্বাধীন করতে শৈশব থেকেই তার বিপ্লবী চেতনার বিকাশ ঘটে। অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রীতিলতা। বীর বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নির্দেশে ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে ১৫ সদস্যের একটি বিপ্লবী দলের নেতৃত্বে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামে ইউরোপিয়ান ক্লাব দখল করার চেষ্টায় আক্রমণ করেন। সেই আক্রমণে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ধরা পড়ার পরই বিপ্লবী দলের গোপনীয়তা রক্ষায় আত্মঘাতী হন প্রীতিলতা।
স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর শহীদ দিবসটি আজ রাজ্যজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে কলকাতা ময়দানে বিপ্লবী প্রীতিলতা-র মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। নবান্নেও তার ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রয়ান বার্ষিকীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন- স্বাধীনতা সংগ্রামী, শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রয়াণ দিবসে জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা।
আমি কুর্নিশ জানাই এই বাংলার মাটিকে যেখানে এমন বীরাঙ্গনার জন্ম হয়েছিল। শুধু তিনিই নন, মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে কল্পনা দত্ত, বীণা দাশ থেকে সুনীতি চৌধুরীর মতো অসংখ্য অগ্নিকন্যার জন্মভূমি আমাদের এই বাংলা।
আমি সবসময় মনে করি, বাংলা না থাকলে স্বাধীনতা আন্দোলন জয়ী হত না। বাংলাই স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান।
আমার গর্ব, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের গর্বের ইতিহাস তুলে ধরতে আমরা যে আলিপুর মিউজিয়াম করেছি সেখানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার সহ বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি।
আমাদের স্বাধীনতা খুব কষ্ট করে অর্জন করতে হয়েছে। যে ঐক্যবদ্ধ, সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক স্বাধীন দেশের স্বপ্ন আমাদের দেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেখেছিলেন, সেই ঐতিহ্য অটুট রাখাই আমাদের শপথ।