Prabir Ghosal Showcaused: দলবিরোধী মন্তব্যের জের, প্রবীর ঘোষালকে শোকজ করল তৃণমূল
প্রবীর ঘোষাল। Photo Source: Wikipedia

কলকাতা, ২৬ জানুয়ারি: দলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগড়ে হুগলি (Hooghly) জেলার কোর কমিটি ও জেলা তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন উত্তরপাড়ার (Uttarpara) তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল (Prabir Ghoshal)। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই প্রবীর ঘোষালকে শোকজ করল রাজ্যের শাসক দল। দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে শোকজ করা হয়েছে উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষালকে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রবীর ঘোষালের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: MLA Prabir Ghoshal Resigns From Hooghly Core Committee: হুগলি জেলার কোর কমিটি জেলা মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল

বেশ কয়েকদিন ধরেই দলের প্রতি একটু বেসুরো প্রবীর ঘোষাল। যা ঘিরে দলবদলের তালিকায় তাঁর নামও যোগ করেছিলেন অনেকেই। শুভেন্দু অধিকারীর মত প্রবীর ঘোষালও বিজেপির হাত ধরছে, এমনটাই আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়ে দলের বিরুদ্ধেই একের পর এক অভিযোগ তুললেন প্রবীর ঘোষাল। নবগ্রাম হীরালাল পাল কলেজের গভর্নিং বডি, প্রশাসনিক ভবন তৈরিতে ভূমিকা রয়েছে প্রবীর ঘোষালের; কিন্তু উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রণ নেই তাঁর। প্রবীর ঘোষালের পরিবর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কল্যাণ ব্যানার্জিকে। আর এতে রয়েছে উপরমহলের নির্দেশ। কানাঘুষো এমনই খবর এসে পৌঁছেছে প্রবীর ঘোষালের কাছে। পুরো বিষয়টিকে নোংরা রাজনীতি বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুধু এটাই নয়। জেলার আরও একটি কলেজ- উত্তরপাড়া পেয়ারিমোহনের গভর্নিং কমিটির জন্য শিক্ষা দফতরে নামের তালিকা পাঠালেও সেটির সরকারিভাবে কাজ শুরু না হওয়ায় মমতা ব্যানার্জিকে বলেন প্রবীর ঘোষাল। পরে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিজে তদারকি করলেও মমতার নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর।

মমতা ব্যানার্জির পুরশুড়ার জনসভায় প্রবীর ঘোষালের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল! সেই প্রশ্নের উত্তর এদিন দেন খোদ উত্তরপাড়ার বিধায়ক। পুরশুড়ায় মমতা ব্যানার্জির জনসভায় আমন্ত্রণই জানানো হয়নি বলে দাবি প্রবীর ঘোষালের। প্রশান্ত কিশোরের উপরেও এদিন ক্ষোভ উগড়ে দেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক প্রবীর ঘোষালের কথায়, "একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে দলে। যারা আমাদের মত কাউকে কাজ করতে দিচ্ছে না। মমতা ব্যানার্জিকে বলেও এতে কোনও লাভ হচ্ছে না। আদতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।" অবশেষে একের পর দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে শোকজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জেরে প্রবীর ঘোষালকে একহাত নেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জিও।