গত এপ্রিল মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় র্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলে এর এক গবেষক ছাত্র আত্মঘাতী হন। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় হরিণঘাটা থানার মোহনপুরে অবস্থিত আইসার কলকাতার ওই ক্যাম্পাস। ওই ঘটনার পর অ্যানটি র্যাগিং সেল গঠন করে কড়া বার্তা দিল আইসার কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় অ্যান্টি র্যাগিং ডে’র দিনেই একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আইসারের তরফে কলকাতার একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে অ্যান্টি রেগিং সেল (Anti-Ragging Cell In IISER) গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য অ্যান্টি রেগিং সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ের সমাধান এবং তত্ত্বাবধান করবে ওই সেল। সাহায্যের জন্য নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নাম্বার ও থাকছে বলেও জানা গেছে।
একইসঙ্গে, শিক্ষার্থীদের যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি ও সমস্যা সমাধানে একটি জরুরি ও সংকট মোকাবিলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নোডাল অফিসার, কো-নোডাল অফিসার, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা থাকবেন। র্যাগিং-সংক্রান্ত ঘটনার ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও গঠন হয়েছে, যা পুলিসের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের অ্যান্টি র্যাগিং সেল-এ অভিযোগ করেছিলেন আইসার (IISER) কলকাতার মৃত গবেষক অনমিত্র রায়। অভিযোগটি ছিল র্যাগিং, দুর্ব্যবহার, বুলিংয়ের। নিজের ল্যাবের এক সহ-গবেষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনেন ওই ছাত্র। আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যে দীর্ঘ পোস্টটি করেন সেখানেও অনমিত্র জানান, মৃত্যুর চার মাস আগে তিনি ওই অভিযোগ করেন। কিন্তু অ্যান্টি র্যাগিং সেল নিষ্ক্রিয়ই ছিল। সেই ঘটনা সামনে আসতেই বৈঠকে বসে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে জাতীয় অ্যান্টি র্যাগিং ডে’র দিনেই অ্যান্টি রেগিং সেল গঠন করল তারা।