Narada Case: নারদায় নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেফতারিতে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, তুমুল বিক্ষোভে তৃণমূল সমর্থকরা
ছবি ট্যুইটার

কলকাতা, ১৭ মে: উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। নাটকীয় ভোটপর্ব মিটতেই, ভোট পরবর্তী হিংসা, তারপর রাজ্যপালের জেলা সফর। রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে এবার হাজির নারদ কাণ্ডে রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেফতারি। এর প্রতিবাদে লকডাউনের মাঝেই নিজাম প্যালেসের বাইরে জোর প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা (TMC Supporter)। তৃণমূল সমর্থকরা ইট বৃষ্টিও চালাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখানো হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়ার চার নেতার ভার্চুয়াল শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), সুব্রত মুখার্জি (Subrata Mukherjee), মদন মিত্র (Madan Mitra)-দের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সিবিআই অফিসের বাইরে বাঁধভাঙা প্রতিবাদে শাসক দলের কর্মীরা। সোমবার সকালে যখন চেতলায় পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে যখন সিবিআই আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন, তখনই বড় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূল সমর্থকরা। আরও পড়ুন: Narada Case: পাঁচ বছর পর গ্রেফতারি, নারদ মামলার ঘটনাক্রম

সিবিআইয়ের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে পথ আটকানোর হুমকি দেন। কিন্তু ফিরহাদ সমর্থকদের অশান্তি না করার আবেদন জানান। সকালে নারদ কাণ্ডে সোমবার বেলা বাড়তেই নিজাম প্যালেসে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই বাইরে জড়ো হতে থাকেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। তৃণমূলের পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

নিজাম প্যালেসের ১৫ তলায় তৃণমূলের চার নেতা তথা রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পৃথক ঘরে রাখা হয়েছে। সিবিআই হানার খবর পেয়ে সকালেই ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপরে সেখান থেকে সটান চলে যান নিজাম প্যালেসে। ১৫ তলার ভিজিটরস রুমে বসে আছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Same footage. Characters seen on the Narada clip:

জানা গেছে, তিনি বলেছেন, বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ্যের চার তৃণমূল নেতাকে। যতক্ষণ না তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় ততক্ষণ তিনি নিজাম প্যালেস ছেড়ে যাবেন না। এক ঘণ্টা কেটে গেলেও সেখান থেকে বেরোননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালে যখন চেতলার বাড়ি থেকে সিবিআই ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেপ্তার করে তখন তিনি বলেছিলেন, “আমাকে নারদা মামলায় গ্রেপ্তার করল সিবিআই। আদালতে লড়ে নেব।”

একে একে মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতারির পর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিধায়ক পত্নী রত্না, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চলে আসেন নিজাম প্যালেসে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকাল দশটা নাগাদ নিজাম প্যালেসের অ্যারেস্ট মেমোয় চারজনকে দিয়ে সইও করিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার সাত সকালে মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের ব্যবধানে শাসকদলের চার নেতা-মন্ত্রীকে এভাবে বাড়ি থেকে গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কোভিড বিধি মেনে চলচে লকডাউন। এরমধ্যে এহেন ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।