নৈহাটির বড় মা কালী। (Photo Credits:X)

Naihati Boro Maa Kali: উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির 'বড় মা কালী মন্দির'এখন থেকে এক শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। Boro Maa Kali এই মন্দিরের ইতিহাসের সূচনা ঘটে ১৯২৩ সালে, যখন যুবক ভবেশ চক্রবর্তী নবদ্বীপের রাস মেলা দেখতে যান। সেখানে মূর্তির আকার ও মহিমায় মুগ্ধ হয়ে তিনি স্বপ্নে মা কালীর নির্দেশ পান, যার ফলে নৈহাটিতে ২২ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল কালী মূর্তি গড়ে তোলেন। শুরুতে "ভবেশ কালী" নামে পরিচিত এই মূর্তিটি, পরে "বড় মা" নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে, এই মন্দিরে মা কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর কালীপূজার সময়, যা লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ভবেশ চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যরা আজও পূজার আয়োজন ও ভোগের প্রস্তুতি করেন।

নৈহাটির বড় মা কালী: শতবর্ষ প্রাচীনতার ঐতিহ্য আর সীমাহীন আবেগ-ভক্তির পীঠস্থান

মন্দিরটি সম্প্রতি ১০০ বছর পূর্ণ করেছে, এবং এই উপলক্ষে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে স্থায়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই মন্দিরের চারপাশে বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দিরও রয়েছে, যা ভক্তদের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে। নৈহাটির বড় মা কালী মন্দির শুধু একটি পূজাস্থল নয়, এটি একটি ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। এখানে আসা ভক্তরা মা কালীর আশীর্বাদ লাভে বিশ্বাসী, এবং তাদের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন।

নৈহাটির বড় মা কালীর ভিডিও

নৈহাটির বড় মা কালী মন্দিরের জানা-অজানা কিছু তথ্য

২১ ফুটের মূর্তি দাঁড়ায় ২৫ ফুটে

নৈহাটিতে চলতি বছর কালীপুজোর জন্য তৈরি হচ্ছে ২১ ফুট উচ্চতার কালী মূর্তি। মূর্তিটি তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ১২ কুইন্টাল খড়, ১০০ বাঁশ, ৫০ কেজি দড়ি এবং ২ ট্রাক মাটি।মূর্তির মূল কাঠামো ২১ ফুট হলেও, পূর্ণ শোভা এবং অলংকার বসানোর পর এটি ২৫ ফুট উচ্চতায় দাঁড়ায়। মূর্তির এই আকার ও শোভা ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ এবং উন্মাদনা আরও বাড়িয়েছে।

দেখুন বড় মা-কে নিয়ে ভক্তদের আবেগ

স্বপ্নের নির্দেশে সৃষ্টি

ভবেশ চক্রবর্তী নবদ্বীপে ভাঙা রাস দেখে মুগ্ধ হয়ে স্বপ্নে মা কালীর নির্দেশ পেয়েছিলেন, যার ফলে নৈহাটিতে ২২ ফুট উচ্চতার মূর্তি তৈরি হয়।

বড় মা কালীর সন্ধ্যা-আরতী

শুরুতে সাধারণ পরিবারের পূজা

প্রথম দিকে এটি শুধুমাত্র ভবেশ চক্রবর্তী ও তার পরিবারের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পূজা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়।

'বড় মা'নামের উৎস

মূর্তিটি প্রথমে কেবল স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে, আকার ও মহিমার কারণে ভক্তরা মূর্তিটিকে “বড় মা” নাম দিয়েছেন, যা এখন সমগ্র নৈহাটির আধ্যাত্মিক প্রতীক।

পূজার আয়োজনের অনন্যতা

পূজার সময় মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। এখানে মন্দির কমিটি ভক্তদের সুবিধার্থে বিভিন্ন আয়োজন করে যেমন: ভোগ বিতরণ, বিশেষ প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আধ্যাত্মিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব

মন্দিরটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, বরং নৈহাটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। প্রতিটি পূজা স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে মিলিত হয়ে ঘটে।

ভক্তদের বিশ্বাস

ভক্তদের বিশ্বাস, বড় মা কালী এখানে আশীর্বাদ দিলে দুঃসময়ে শক্তি ও সান্ত্বনা দেয়। তাই এই মন্দিরে প্রতি বছর বহু মানুষ ভিড় করে।