দক্ষিণ ২৪ পরগনায় টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ চরমে। গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি আজ সকালেও অব্যাহত। মেঘলা আকাশ, সঙ্গে দমকা বাতাসে জেলার বিভিন্ন এলাকা বিপর্যস্ত। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় বৃষ্টি ও হাওয়ার তীব্রতা বেশি থাকায় সাধারণ মানুষএদিকে মহালয়ার পর থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন শুরু হলেও টানা বৃষ্টির কারণে বিঘ্ন ঘটছে প্রস্তুতিতে। অনেক পুজো মণ্ডপে কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে উদ্যোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অপরদিকে, টানা বৃষ্টির জেরে জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের একাধিকএলাকায় জল জমেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, স্কুল-কলেজ ও বাজারঘাটেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে একদিকে চলছে পুজোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে বৃষ্টি ও জমা জলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় তৈরি নিম্নচাপের কারণে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় গত রাত থেকে প্রবল বর্ষণ হয়। আলিপুরে আজ সকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ডক্টর হাবিবুর রহমান বিশ্বাস।
এদিকে, এই বৃষ্টির ফলে সারা কলকাতা প্রায় জলের তলায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সকালবেলায় রাস্তায় বেরোনো মানুষজন দুর্ভোগে পড়েছেন।বেশ কিছু স্কুলে নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বহু গাড়িতে জল ঢুকে খারাপ হয়ে রাস্তায় আটকে পড়েছে।আকাশবাণী কলকাতার দুটি গাড়িও রাস্তায় আটকে পড়ে। আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণ ২৪ পরগনা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
অন্যদিকে আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর বঙ্গোপসাগরের ওপর অপর একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হবার সম্ভাবনা রয়েছে ।যা পরবর্তীকালে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সাগর উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।