ঊষসী নিগ্রহ কাণ্ড: রাতের শহরে হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের ধরতে অভিযান, সাসপেন্ড চারু মার্কেট থানার SI
মডেল অভিনেত্রী ঊষসী সেনগুপ্ত( Photo Credits-Facebook)

কলকাতা, ২০ জুন: মডেল-অভিনেত্রী ঊষসী সেনগুপ্ত ( নিগ্রহ কাণ্ডে আরও সক্রিয় হল কলকাতা পুলিশ। তদন্তে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হল চারু মার্কেট থানার এসআইকে। নিগ্রহের ঘটনায় তিনটি থানার কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে লালবাজার। চারু মার্কেট থানার সাব ইন্সপেক্টর পীযূষ বলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে সময়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ভবানীপুর থানার এক্তিয়ারভুক্ত বলে কেন এড়িয়ে গিয়েছেন? ঘটনায় শোকজ করা হয়েছে ভবানীপুর থানার এসআই মৃণাল মজুমদার ও ময়দান থানার এএসআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

এদিকে, ঊষষীকে হেনস্থাকারীদের কারও মাথাতেই ছিল না হেলমেট। আর তাই ঊষসীর অভিযোগের পর এবার রাতের কলকাতায় হেলমেটহীন বাইক আরোহীর খোঁজে রাস্তায় নামল পুলিস। হেলমেট বাইক আরোহীদের করা হল জরিমানা। ঊষসী সেনগুপ্তর উবর গাড়ির চালককে নিগ্রহের পর ফের সামনে আসে সেই অভিযোগ। অভিযুক্তদের কারও মাথাতেই ছিল না হেলমেট। ঊষসী যে ভিডিয়োটি ফেসবুকে দিয়েছেন, তাতেও সেটা স্পষ্ট। সেই ঘটনার পর এদিন রাতে এক্সাইড মোড়ে চলল পুলিসের নজরদারি। আরও পড়ুন- ঊষসীর সঙ্গে সেই সেই রাতে কী হয়েছিল 

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে একদল যুবকের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া- অভিনেত্রী- মডেল ঊষসী সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার কাজ শেষ করে বাইপাসের(EM Bypass) ধারের একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে এক সহকর্মীর সঙ্গে উবারে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

এক্সাইড মোড় থেকে গাড়ি এলগিন রোডের দিকে যেতেই একটি বাইক এসে উবারে ধাক্কা মারে। উবার থামতেই ওই বাইকচালক এবং তাঁর বন্ধুরা এসে ঝামেলা শুরু করেন। উবার চালককে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে অন্তত ১৫ জন যুবক ছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ঊষসী। তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টাও করা হয়। হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় মোবাইল। পুলিশের কাছে জানাতে গেলে এটা এই থানার বিষয় নয় বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। পরে এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফেসবুকে ঊষসী লিখেছেন(Ushosi Sengupta), আমি গাড়ি থেকে নেমে ভিডিও করতে শুরু করি। দৌড়ে ময়দান থানায় যাই। এক অফিসার দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ওটা ভবানীপুর থানার (Bhavanipur Police station) ঘটনা। আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করি, আপনি চলুন, না হলে ড্রাইভারকে মেরে ফেলবে। উনি গিয়ে ওদের বলেন, ঝামেলা করছ কেন? ওরা অফিসারকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। সব কিছু মিটে যাওয়ার পর ভবানীপুর থানা থেকে দু’জন অফিসার গিয়েছিলেন।’‌