Reopen Dooars (Photo Credit: X@ParveenKaswan)

মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে ডুয়ার্সের জঙ্গল। বর্ষা এবং বন্যপ্রাণীদের প্রজননকালে প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জঙ্গলে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। সেই সময়কাল শেষে মঙ্গলবার থেকে দরজা খুলবে গরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এবং বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র। তার আগে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে তুঙ্গে তোড়জোড়। উল্লেখ্য প্রায় তিনমাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে গোরুমারা ও জলদাপাড়া। সাজিয়ে তোলা হয়েছে বন দফতরের কটেজগুলি। এখন থেকে অনলাইনে হাতি সাফারির সুযোগ মিলছে। একমাস আগে বুকিং করা যাবে। গাড়ির সাফারি অবশ্য অফলাইনে থাকছে। রং করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ারও।

গোরুমারায় সাফারিতে এবার নতুন অতিথির দেখা পেতে পারেন পর্যটকরা। কারণ, জঙ্গল বন্ধ থাকাকালীন একাধিক গণ্ডার শাবকের জন্ম হয়েছে। রামসাইয়ের জঙ্গলে দেখা মিলছে তাদের। একইসঙ্গে মেদলা ক্যাম্পে শাবকের জন্ম দিয়েছে কুনকি হাতি রামি। মায়ের সঙ্গে পিলখানায় রয়েছে ওই হস্তিশাবক। পর্যটকরা দেখা পেতে পারেন তাদের।পর্যটকরা যাতে দূর থেকে বন্যপ্রাণীদের নির্বিঘ্নে দেখতে পারেন, তাই বেড়ে ওঠা আগাছার জঙ্গল সাফাই করার কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া জলদাপাড়ায় পাঁচটি হাতিকে রাইডিংয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বসানো হয়েছে নতুন সাইনবোর্ড।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে জলদাপাড়া টাওয়ারের চারদিকে নতুন তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টাওয়ারের চারদিকে গভীর খাদ তৈরি করা হয়েছে। হাতি রাখার শেডগুলি আরও দূরে সরানো হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের সাফারির গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা হবে। লবণাক্ত এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এছাড়াও ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২৪ জন বনকর্মী হাতি, গন্ডার, বাইসন ও কাঠ মাফিয়াদের হাতে মারা গিয়েছেন। তাঁদের স্মৃতিতে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গতবছর থেকে বিনা টিকিটে গরুমারা জাতীয় উদ্যানে ঢুকতে পারছেন পর্যটকরা। লাটাগুড়ির জঙ্গলে সাফারির জন্য পর্যটকদের মাথাপিছু ২৫ টাকা টিকিট লাগলেও চলতি বছর লাটাগুড়ি ও গরুমারার জঙ্গলে অপরিবর্তিত থাকছে জিপসির ভাড়া ও গাইড খরচ।