ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা মেট্রো Photo Credits: IANS)

কলকাতা, ১৭ সেপ্টেম্বর : বৌবাজারে টানেল খোঁড়ার সময় একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। এনিয়ে কলকাতা পৌরনিগমের (KMC) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর (East-West Metro) কাজে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta high court)। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত টানেলের কোনও কাজ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করণ নায়ার রাধাকৃষ্ণন এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় তারা কী কী করেছে বা করতে চাইছে তা জানাতে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা।

মঙ্গলবার হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করণ নায়ার রাধাকৃষ্ণন এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কাজের বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে সবিস্তারে রিপোর্ট দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানাতে হবে। বিপর্যয় ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণের কী পরিকল্পনা রয়েছে, সে সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে। আদালতের আরও নির্দেশ, মামলায় কলকাতা পৌরনিগমতে যুক্ত করতে হবে। আরও পড়ুন :  জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা পাকিস্তান তাই ৩৭০ ধারা কোনও ইস্যু নয়, জঙ্গিবাদই বড় চ্যালেঞ্জ, এস জয় শংকর

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেন কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের (KMRCL) আইনজীবীরা। কলকাতার সংবাদমাধ্যমগুলির খবর প্রকাশ, রিপোর্টে বলা হয়েছে ৭৮টি বাড়ির ৬৮২ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরানো হয়েছে। ৮৩টি পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে দুর্ঘটনা ছাড়াও ভবিষ্যতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্রকল্প সংক্রান্ত পরিকল্পনার রিপোর্ট এদিন জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগেই বৌ বাজারের দুর্ঘটনার পরে সুড়ঙ্গ কাটার কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে কেএমআরসিএল-কে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, বন্ধ রাখা কাজ আগামীদিনে হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া শুরু করা হবে না। আদালতও তাতে সায় দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সংস্থাকে দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যে কমিটি তৈরি করা হয়েছে, সেই কমিটির বিশেষজ্ঞদের মতামতও জানাতে হবে হাইকোর্টকে।

৩১ অগাস্ট ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খুঁড়তে গিয়ে বৌবাজারে ভেঙে পড়ে একাধিক বাড়ি। দুর্গা পিতুরী লেন, স্যাকরা পাড়া লেন, গৌর দে লেনের বহু বাড়ি ভেঙে পড়ে বা তাতে ফাটল দেখা যায়। ভগ্ন বাড়ি থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের বের করে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে। আবাসন খালি করে অন্যত্র চলে যেতে হয় রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়কেও। নবান্নে তড়িঘড়ি মেট্রো কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাতে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি বাড়ি নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক তুলে দিয়েছিলেন কেএমআরসিএল-এর আধিকারিকরা। সুড়ঙ্গের কাজ স্থগিত রাখতে চেয়ে কলকাতা পৌরনিগমের (KMC) তরফে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই মেট্রোর কাজে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।