কলকাতার বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ডে ঋতুরাজ হোটেলের মালিক-সহ দু'জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত হোটেলের মালিকের নাম , এছাড়াও ম্যানেজার গৌরব কাপুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিসি সেন্ট্রাল জানিয়েছেন, আজ (১ মে বৃহস্পতিবার) সকালে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল, বুধবার রাতে বড়বাজারের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে দমকল। পাশাপাশি, জোড়াসাকো থানার পুলিশও সুয়ো মোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) অভিযোগ দায়ের করে। সেই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সিট গঠন করেছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রালের নেতৃত্বে ১১ জনের ওই দল ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
#watch: মেছুয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটক হোটেলের ম্যানেজার।
সব খবর: https://t.co/Z9cGg0kjDs#Machuabazar | #Fire | #Kolkata | #FireNews | #Fire | #LatestNews | #Burrabazar pic.twitter.com/JBOoYdVEnu— TV9 Bangla (@Tv9_Bangla) April 30, 2025
ঘটনার পরই মেছুয়াবাজারের হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দমকলের তরফে বলা হচ্ছে, হোটেলে প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত করা ছিল। ফায়ার অ্যালার্ম বা অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র কাজই করেনি।এই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এদের মধ্যে ১৩ জনের দেহ আগুন নেভার পর হোটেলের ভেতর থেকে উদ্ধার করেন দমকলের কর্মীরা। তাঁদের দেহে পুড়ে যাওয়ার কোনও চিহ্ন ছিল না। যা থেকে প্রাথমিক তদন্তে দমকল ও পুলিশ কর্মীদের অনুমান, দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে তাঁদের। মৃত ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে।
বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলের ডিজি রণবীর কুমার জানান, ওই হোটেলের ‘ফায়ার লাইসেন্স’-এর মেয়াদ শেষ হয়েছিল তিন বছর আগেই। তার পর তা আর নবীকরণ করাননি হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের সময় সেটি কাজ করেনি।
প্রাথমিক তদন্তের পর দমকল আধিকারিকেরা মনে করছেন, হোটেলের দোতলায় প্লাইউডের কাজ চলছিল। আর দোতলা থেকেই আগুন এবং ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া ক্রমশ উপরের দিতে উঠতে থাকায় তিনতলা কিংবা চারতলায় থাকা আবাসিকেরা হোটেলের নীচে নামতে পারেননি।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে যে, কেন উপরের তলাগুলিতে থাকা জানলা দিয়ে ধোঁয়া বেরোতে পারল না। হোটেলটিতে কেন্দ্রীয় বাতানুকূল ব্যবস্থা বা সেন্ট্রাল এসি নেই। তা সত্ত্বেও কেন অধিকাংশ জানলা বন্ধ ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।