বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে ভারতে এসে জাল নথি তৈরি করে ভারতে বসবাসের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এলাকায়। ঘটনায় গাইঘাটা থানায় ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগে নাম রয়েছে মোট আটজনের। মূল অভিযুক্ত হরিচাঁদ মণ্ডল (৩৫), বাবা সুজয় কুমার মন্ডল বসবাস করেন গাইঘাটার মোরালডাঙা গ্রামে। তবে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের ঝিটকি গ্রাম, আরুয়াখালি ডাকঘর, সাতক্ষীরা সদর থানায় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারী তাহমিনা খাতুন, যিনি নিজেকে হরিচাঁদ মণ্ডলের প্রথম পক্ষের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তাহমিনা খাতুনের অভিযোগ, হরিচাঁদ মণ্ডল ও তাঁর বাবা-মা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা অবৈধ উপায় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। বর্তমানে তাঁরা গাইঘাটার মোরালডাঙা গ্রামে বসবাস করছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হরিচাঁদ মণ্ডল এরপর দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন পূজা রায় নামের এক বাংলাদেশি মহিলাকে, যিনি নিজের ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও অবৈধভাবে ভারতে আছেন।
তাহমিনা খাতুনের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন -দেবব্রত সরকার, রামপ্রসাদ সরকার, রেখা রানি সরকার ও গৌতম ঢালী অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ ভারতীয় নথি সংগ্রহে সাহায্য করেছেন এবং তাঁদের আশ্রয় দিয়েছেন।
অভিযোগকারিণী আরও জানিয়েছেন, তিনি এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এই ঘটনায় গাইঘাটা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের ভারতীয় নাগরিকত্বের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং সীমান্ত পারাপারের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।