মঙ্গলবার গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ছাঁই জলদাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলং ফরেস্ট বাংলো। জানা যাচ্ছে রাত ৯টা নাগাদ মাদারিহাটে জলদাপাড়া জাতীয় বনউদ্যানের এই বাংলোতে আগুন দেখতে পায় কর্মীরাই। ধীরে ধীরে সেই আগুন গ্রাস করে নেয় গোটা বাংলোটিকে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় দমকলে। ঘটনাস্থলে ৪টি ইঞ্জিন আসার পরেও শেষরক্ষা হয়নি। ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে বনবাংলো। এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে শর্ট সার্কিটের কারণেই বাংলোতে আগুন লেগেছে। আর সেখান থেকে এসি ফেঁটে আগুন গোটা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।

দমকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, "৯টা নাগাদ আগুন লাগার পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে ১০টা ১০ নাগাদ ঢুকে পড়ে। আসলে ঘটনাস্থলটি যেহেতু জঙ্গলের মধ্যে, তাই পৌঁছাতে একটু বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে বাংলোটি কাঠের হওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই কারণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। তবে কী কারণে আগুন লাগে সেই বিষয়ে তদন্ত করার পরেই জানানো যাবে"। এদিকে বর্তমানে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান বন্ধ থাকায় এদিন কোনও পর্যটক ছিল না। ফলে কোনও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেনি বলেই জানিয়েছে বাংলোর কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালে তৈরি হয় এই বাংলো। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই বাংলো। যাঁরাই জলদাপাড়া ঘুরতে আসতেই তাঁরাই এখানে অন্তত একবার আসতেন। একটা সময় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু উত্তরবঙ্গ সফরে এলে এই বাংলোতে থাকতেন। সম্প্রতি এটি সংস্কারও করা হয়। জাতীয় উদ্যান খুললে বাংলোতে অনেক পরিবর্তন দেখতে পারতেন  পর্যটকরা। কিন্তু সেটা আর হল না।