Representational Image (Photo Credits: Pixabay)

নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় গতকাল (২৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার) থেকে জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ -সহ বৃষ্টি হচ্ছে। এই দুর্যোগে বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রাণ হারালেন ১৭জন। বজ্রপাতে শুধুমাত্র বাঁকুড়াতেই মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত হয়েছেন ৭জন। বর্ধমানে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। দক্ষিণ দিনাজপুর ১ ও পুরুলিয়ার ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিম্নচাপের কারণে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিরও পূর্বাভাস ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর গড়াতেই বিকেল নাগাদ আকাশে কালো মেঘে ঢেকে যায় বাঁকুড়ার আকাশ। জেলার বিভিন্ন অংশে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত। তাতেই ঘটে ভয়ংকর ঘটনা। পৃথক পৃথক ঘটনায় বাঁকুড়াজুড়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৯ বাঁকুড়াবাসীর। বজ্রপাতে ওন্দায় ৪ জন, বাঁকুড়া শহরে ১ জন, কোতুলপুরে ১, ইন্দাসে ১ জন পাত্রসায়রে ১, জয়পুরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে কৃষকও। বজ্রপাতের সময় এদের কেউ কেউ মাঠে কাজ করছিলেন। কেউ বাইরে ছিলেন।

অন্যদিকে, বর্ধমানের জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় হালদার জানিয়েছেন, জেলার ৬টি ব্লকে ৬ জন বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন। জখম হয়েছেন তিনজন। এদিন রায়না-২ ব্লকের আলমপুর মনসাডাঙা মাঠে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধ কৃষকের। মৃতের নাম সনাতন পাত্র (৬১)। তাঁর বাড়ি মাধবডিহি গ্রামে। রায়না-১ ব্লকের তেয়ান্ডুল গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বাজ পড়ে মারা গিয়েছেন অভিজিৎ সাঁতরা (২৫) নামে এক যুবক। তাঁর বাড়ি ওই গ্রামেই। গলসি-১ ব্লকের ফতেপুর গ্রামেও মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মদন বাগদি (৬৮) নামে এক ব্যক্তির। খণ্ডঘোষেও মাঠে কাজ করার সময় মুইধারা গ্রামের পরিমল দাস নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। আউশগ্রামের দেয়াশা হাটমারা মাঠে বজ্রপাতে রবিন টুডু (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। মৃতের বাড়ি আউশগ্রামের বেলাড়ি গ্রামে। মঙ্গলকোটেও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে। মৃতের নাম বুড়ো মার্ডি (৬৬)। তাঁর বাড়ি মঙ্গলকোটের চানক গ্রামে।

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের ভগবন্তপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের লাহিরগঞ্জ এলাকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে লক্ষ্মীকান্ত পানের (৪২)। বজ্রপাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকের মোহনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগবতীপুরের কমল সরকার (৫৬)-এর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও ধান রোপন করতে গিয়ে পুরুলিয়ার ঝালদায় গুরিডি গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে সুমিত্রা মাহাতোর। প্রত্যেকের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃতদের পরিবার সরকারি সাহায্য পাবেন। সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।