iPhone. (Photo Credits:X)

Tracked iPhone: দুনিয়ার অন্যতম বড় এক ফোন চুরি চক্রের পর্দাফাঁস করল আইফোন। ৪০ হাজারেরও বেশি ফোন চুরির পর তা চিনে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। অ্যাপলের 'ফাইন্ড মাই' ফিচার শেষ অবধি ফোন চোর চক্রের পরিকল্পনা ভেস্তে দিল। লন্ডনের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথরো এয়ারপোর্টে অভিযান চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এক বিশাল ফোন চোর গ্যাং। Heathrow Airport থেকে মোট ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫,৫২৫ কোটি টাকার চুরি যাওয়া ফোন উদ্ধার হল। লন্ডন থেকে চিনে পাচার হয়ে যাচ্ছিল চুরি-ছিনতাই করা এই ফোনগুলি। চুরি যাওয়া ফোনগুলির মধ্যে বেশিরভাগই দামি মডেলের আই ফোন।

আইফোনের জিপিএস ট্র্যাকিং থেকেই হদিশ

আইফোনের জিপিএস ট্র্যাকিং থেকেই ফোন চুরি চক্রের হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এক আই ফোন ইউজার তার হারানো আইফোন ট্র্যাক করে পুলিশের কাছে যাওয়ার ফলে একসঙ্গে ৪০ হাজার চুরি যাওয়া ফোনের হদিশ পেয়ে গেল পুলিশ। যেগুলির মধ্য়ে বেশিরভাগই দামি মডেলের আইফোন। চক্রের পাণ্ডা স্বীকার করেছে, এটা বড় আন্তর্জাতিক চক্র। ১ বিলিয়নের বেশি ব্যবসা হয় চুরি করা ফোনের কারবারে।

ঠিক কীভাবে চুরি করা হয়েছিল ফোনগুলি

লন্ডন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ফোন চুরি করে তা হিথরো বিমানবন্দরে কার্গো এরিয়ার কাছে এক গুদামে রাখা হত। তারপর সুযোগ বুঝে সেগুলি পাচার করা হত চিনে। চিনের কালো বাজারে বড় লাভে বিক্রি হতো চুরি করে আনা ফোনগুলি। এই চক্র লন্ডনের মোট ফোন চুরির প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী। গত বছর দেড়েক ধরেই লন্ডন সহ ব্রিটিনের ভিড় হওয়া জায়াগয় মোবাইল সেটের চুরি, ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছিল।

গত বছর শুধু লন্ডনেই ৯০ হাজারের বেশি ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছিল

নাইট ক্লাব, বার, বাস-মেট্রোর মতো ব্যস্ত জায়গাগুলিতে ফোন চোর চক্রের সদস্যরা 'স্ন্যাচ অ্যান্ড গ্র্যাব' পদ্ধতিতে ফোন চুরি করত। এই অপারেশন ছিল একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ, যেখানে চোর, হ্যান্ডলার এবং রফতানিকারীরা সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় সংবাগৃদমাধ্যমে প্রকাশ, হিথরোয় লন্ডন পুলিশের বিশেষ অভিযানে হাজার হাজার ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোনের মধ্যে বেশিরভাগই আইফোন, যার মোট মূল্য মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি। অ্যাপলের 'ফাইন্ড মাই' ফিচার ফোন চোরধরদের ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। লন্ডনের ফোন চুরির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৯০ হাজারটি ফোন চুরি হয়েছে, যার প্রায় ৩৬ হাজারটি চুরির পিছনে এই গ্যাং-র প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া চুরিকৃত ফোনের কালো বাজারে বার্ষিক মুল্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড।