AI-driven Media: আধুনিক দুনিয়ায় খবরের ব্যাখা বা ন্য়ারেটিভ শেষ কথা বলে। খবরের ন্য়ারেটিভকে প্রোপাগান্ডা দিয়ে ঘুরিয়ে অনেক দেশ, অনেক নেতাই ভিলেন থেকে সুপার হিরো বনে যায়। আবার খবরের যুদ্ধে হেরে গেলে ফল হয় উল্টোটাও। ইউরোপ, আমেরিকা বা পশ্চিমের দেশগুলির কাছে গত কয়েক বছর ধরে প্রচার যুদ্ধে অনেকটা পিছনে থাকার পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাশিয়া (Russia), চিন (China)। ইউক্রেনের যুদ্ধে শুরুতে পুতিনকে নিয়ে যত আক্রমণ করা হচ্ছিল, রুশ মিডিয়া (বিরোধীরা বলেন, পুতিনের প্রোপগন্ডা মেশিনারি) আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাণপাত করে খবরের 'ন্য়ারেটিভ' যুদ্ধে কিছুটা মুখরক্ষা করতে পেরেছে । চিনও তাই। আমেরিকার সঙ্গে প্রচার বা খবরের ন্য়ারেটিভে যুদ্ধে অনেকটা পিছিয়ে থাকার পর চিন এখন টিকটক সহ নানা টুলের মাধ্যমে নিজেদের জমি খুঁজছে। এরই মাঝে চিন ও রাশিয়া বিশ্বব্যাপি প্রচার যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর হাত ধরল। তিয়ানজিনে SCO-র বৈঠকে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাতে ব্য়স্ত, তখনই পুতিন ও শি জিং পিন সেরে নিলেন খবরের দুনিয়ায় রাজ করার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। রাশিয়ার গাজপ্রম-মিডিয়া এবং চীনের উদীয়মান মিডিয়া-টেক সংস্থা অরানোভা যৌথভাবে এআই-চালিত মিডিয়া প্রকল্পে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিল। সহজ করে বললে, দুই বন্ধু দেশ হাতে হাত ধরে এক ধরনের এআই চালিত "নিউজ ফ্যাক্টরি"খুলল। যে ফ্যাক্টারিতে সব কিছুই করব এআই বা রোবট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খবর: পুতিন-জিনপিংয়ের লক্ষ্য কী
আমেরিকা, ইউরোপ সহ পশ্চিমের দেশের মিডিয়া প্রভাব কাটাতে নিজস্ব এক তথ্য-ব্লক তৈরি করছে চিন ও রাশিয়া। যেখানে গোটা বিশ্ব বিশেষ করে ইউরেশিয়ার দর্শকরা চিন- রাশিয়াকে নিয়ে পজেটিভ বার্তা বা খবরই বেশি করে পাবে। পুতিন-জিনপিংয়ের লক্ষ্য হল, আন্তর্জাতিক তথ্য-যুদ্ধে এশিয়ার একক শক্তিতে পরিণত হওয়া। চিন ও রাশিয়ার মিলিত শক্তিতে তৈরি হওয়া এআই নির্ভর কনটেন্ট পাইপলাইন, যা হবে দ্রুত, আরও ধারালো এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
দেখুন ভিডিও
"And how did #putin's annual job assessment go?"🤣🤣🤣
From https://t.co/9LokLYjCF5#Putin met with #Xi_Jinping at the #SCO_Forum in #China.#ukraine #putinisamasskiller #putinisawarcriminal @kardinal691 pic.twitter.com/94DOEMe9PM
— Putin's IBS (@kardinal691) August 31, 2025
এআই মিডিয়া নিউজ চুক্তির ফলে কী হতে চলেছে
এই চুক্তির ফলে চিন ও রাশিয়ার সরকারের পক্ষে সংবাদ প্রতিবেদন, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দ্রুততর, কার্যকরী ও সঠিক পাঠক বা দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাবে। সবকিছু এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দ্রুত তৈরি হবে। নির্দিষ্ট "ন্যারেটিভ" বা বার্তা জোরদার করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাষা ও টোন ঠিক করা যাবে। সেন্সরের চোখে ধুলো দিয়ে যে কোনও দেশে পোঁছে যেতে পারে এই এআই নিউজপুল। চিন ও রাশিয়ার এই AI-নিউজপুলে অ্যালগরিদম এমনভাবে ডিজাইন করা থাকবে যাতে অপ্রয়োজনীয় বা বিপরীতমুখী তথ্য সহজেই বাদ দেওয়া যায়। খবর বা সরকারের প্রচারের কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, প্রকাশ, সবটাই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে।
কী দাবি দুই দেশের
আনুষ্ঠানিকভাবে এআই মিডিয়া নিয়ে চুক্তিকে দুই দেশ এই সহযোগিতাকে বলছে 'ভবিষ্যতের প্রযুক্তির মেরুদণ্ড' হিসাবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে রাশিয়া ও চিন নিজেদের তথ্যপ্রবাহকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে।