What Comes After AI: গোটা দুনিয়ায় এখন শুধু একটাই নাম, যা সবার মুখে মুখে। সে আপনি যে কাজই করুন, যতটা পড়াশোনাই থাকুক, দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকুন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলেজেন্স-এর প্রভাব সর্বত্র পড়ছে, পড়বে, পড়়তে চলেছে। এআই কোথাও কারও কাজ জলের মত সহজ করে দিচ্ছে, আবার কোথাও কারও কাজই খতম করতে দিচ্ছে। দুনিয়া জুড়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে আর্শীবাদ, আবার কোথাও সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিশাপ। চাকরিজীবী বিশেষ করে লেখক, তথ্য প্রযুক্তি সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে AI-র কারণে অনেকেই কাজ হারাচ্ছেন। আর কাজ হারাবেনই বা না কেন, যে কাজটা করতে একজন মানুষের দু আড়াই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে, সেটা অনায়াসে মিনিট আড়াইয়ের মধ্যে করে ফেলছে চ্যাট জিপিটি-র মত জেনারেটিভ এআই (AI)। তার মানে অবশ্য এটা নয় এআই নিখুঁত, নির্ভুল, বা চিন্তাশক্তিতে মানুষকে হারিয়ে দেওয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্ধকার দিক অনেক- গোপনীয়তার লঙ্ঘন থেকে কপিরাইট লঙ্ঘন, ভুয়ো খবর ছড়ানো, 'ডার্ক ওয়েব'কে উতসাহ দান, ভয়েস ক্লোনিং, 'আইডেনটিটি থেফট' বা পরিচয় চুরি। এআই অনেক দিক থেকে অভিশাপও বয়ে আনছে। তবে আলো থাকলে তো অন্ধকারের দিকটা অস্বীকার করা যায় না।
বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তিতে AI কিন্তু মোটেও নতুন নয়। ১৯৫০ সালে অ্যালান টিউরিং মেশিন-চিন্তার ধারণা দেন। ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকার্থি ও তাঁর সহকর্মীরা AI গবেষণার আনুষ্ঠানিক শুরু করেন। এই বছরটাকেই AI-র জন্মসাল হিসাবে ধরা যায়। এরপর নানা উত্থানের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আধুনিক AI-এর আসল বিস্ফোরণটা শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে (Deep Learning + Big Data-র কারণে)। তবে ২০২২ সালে ওপেন এআইয়ের চ্যাটজিটি (ChatGPT) বেরোনোর পর AI প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জীবনে দারুণভাবে ঢুকে পড়ে। ২০২৪ সালে এআই সুনামির গতিতে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। গুগল থেকে মাইক্রোসফট, ইলন মাস্ক থেকে জেফ বেজোস-রা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে চলেছেন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় গবেষণা ও প্রোডাক্টের উন্নতির জন্য। ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই ৩৬ শতাংশ পেশার ৩০ শতাংশ কাজ করে দেবে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, এবার কি? এআই-য়ের পর আগামীর দুনিয়ায় কী কী দেখা যেতে পারে-
সহজ ভাষায় বললে এআইয়ের পর আসতে চলেছে, ১) সুপার ইন্টেলিজেন্স, ২) মানুষ-মেশিন একসঙ্গে, ৩) জিন নিয়ন্ত্রণ, ৪) কোয়ান্টাম কম্পিউটার, ৫) শক্তির বিপ্লব, ৬) মহাকাশ সভ্যতা, ৭) চেতনার অনুসন্ধান।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিষয়গুলি ঠিক কী কী
১. সুপার ইন্টেলিজেন্স
এখনকার AI শুধু নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে।
ভবিষ্যতে AGI আসবে — মানুষের মতো সব কিছু শিখতে ও ভাবতে পারবে।
তারও পরে আসবে সুপার ইন্টেলিজেন্স, যা মানুষকেও ছাড়িয়ে যাবে।
২. মানুষ + মেশিন একসঙ্গে
ব্রেন–কম্পিউটার কানেকশন (যেমন Neuralink) আসছে।
তখন হয়তো আমরা সরাসরি মেশিনের সঙ্গে “ভাবতে” পারব।
ভাষার দরকার হবে না, একে অপরের মনের কথা সরাসরি বুঝে ফেলা যাবে।
৩. বায়ো টেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
AI-র পর আসবে মানুষের শরীর আর জিন নিয়ন্ত্রণের যুগ।
রোগমুক্ত শরীর, দীর্ঘ জীবন, এমনকি “ডিজাইনার বেবি” তৈরি করা সম্ভব হবে।
৪. কোয়ান্টাম কম্পিউটার
সাধারণ কম্পিউটার নয়, কোয়ান্টাম কম্পিউটার পৃথিবী পাল্টে দেবে। কম্পিউটার হয়ে যাবে আশ্চর্য শক্তিশালী এক জিনিস। এতে চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, শক্তি— সব ক্ষেত্রেই বিশাল উন্নতি হবে।
৫. শক্তির বিপ্লব
ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ফিউশন এনার্জি আসতে পারে — প্রায় সীমাহীন পরিষ্কার শক্তি।
তখনই শুরু হবে স্পেস কলোনি বা মহাকাশে নতুন শহর তৈরির কাজ।
৬. মহাকাশ যুগ
রোবট আর AI-র সাহায্যে চাঁদ, মঙ্গল, অ্যাস্টেরয়েড— এসব জায়গায় মানুষ থাকতে শুরু করবে। আমরা সত্যিকারের মাল্টি-প্ল্যানেটারি সভ্যতা হব।
৭. চেতনার রহস্য
AI আমাদের বাধ্য করবে ভাবতে — “আসলে চেতনা কী? আমরা কি সিমুলেশনে বেঁচে আছি?”বিজ্ঞানের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতা মিশে যাবে।