প্যালেস্তাইনের প্রাক্তন ফুটবলার সুলেমান আল-ওবেইদ, যিনি 'প্যালেস্তাইনের পেলে' নামে পরিচিত ছিলেন, তাকে ইজরায়েলি বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনাটি গাজার রাফাহ শহরে ঘটেছে। অবরুদ্ধ করে রাখা রাফাহ অঞ্চলটির মেডিকেল বিভাগের সূত্র মারফত তাঁর মৃত্যুর বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী ওবেইদ বুধবার রাফাহ'য় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর ওপর গুলি চালায় দখলদার বাহিনী। এই হত্যাকাণ্ড ইজরায়েলের পক্ষ থেকে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো গণহত্যায় আরেকটি উদাহরণ।
ওবেইদই শুধু একমাত্র ক্রীড়াবিদ নন, গত মাসেই ৩৯জন ক্রীড়াবিদ, স্কাউট ও তরুণ নেতাকে হত্যা করেছে ইজরায়েলি বাহিনী। প্যালেস্তাইনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনার পর ক্রীড়াবিদদের মধ্যে শহীদদের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ জন হয়েছে, যার মধ্যে খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
Very shocking:
Israel has just killed Palestinian national team star while waiting for aid in Rafah.
I remember hearing his name all the time when the score of matches were announced. He was the top scorer of Gaza in 2016 and 2017. He played mostly for Khadamat… pic.twitter.com/HTp0iKyUDK
— Mosab Abu Toha (@MosabAbuToha) August 6, 2025
প্যালেস্তাইনের 'পেলে' নামে খ্যাতি পাওয়া ওবেইদ সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলার ছিলেন।আল-ওবেইদ তার ফুটবল ক্যারিয়ারে খাদামাত আল-শাতি ক্লাবের হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে পশ্চিম তীরের আল-আমারি ইয়ুথ সেন্টার এবং গাজা স্পোর্টস ক্লাবের হয়েও খেলেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৪১ বছর এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি সেই দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। ২০২৩ এর অক্টোবর পর্যন্ত খেলা চালিয়ে গেছেন তিনি।
২০১০ সালে ওয়েস্ট এশিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়েমেনের বিপক্ষে প্যালেস্তাইনের হয়ে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন। ২০১২ সালের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ বাছাই পর্ব এবং ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও জাতীয় দলের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন ওবেইদ। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ফ্রান্সের কিংবদন্তি এরিক ক্যান্টনা। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, আর কতদিন পর্যন্ত আমরা তাঁদের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেখব?