কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় 'কলকাতা ফটাফট' (Kolkata FF) বর্তমানে একটি অন্যতম জনপ্রিয় অথচ বিতর্কিত ডিজিটাল গেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে. দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশায় সাধারণ মানুষ এই সংখ্যাভিত্তিক খেলায় জড়িয়ে পড়লেও, ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে যে এটি বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে. পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার ‘অনলাইন গেমিং আইন ২০২৫’-এর অধীনে এ পর্যন্ত প্রায় ৮,৪০০টি অবৈধ বেটিং সাইট ও অ্যাপ ব্লক করেছে, যার মধ্যে কলকাতা ফটাফট সংশ্লিষ্ট একাধিক ডোমেইনও রয়েছে.
কলকাতা ফটাফটের ধরন ও পরিচালনা
কলকাতা ফটাফট মূলত একটি লটারিধর্মী খেলা যা দিনে আটবার বা 'আটটি বাজি'তে খেলা হয়. প্রতি বাজির ফলাফল আলাদা আলাদা সময়ে ঘোষণা করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের বারবার বাজি ধরতে প্ররোচিত করে. বর্তমানে এই খেলাটি আর কেবল অফলাইন কাউন্টারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে. প্রযুক্তির এই ব্যবহার খেলাটিকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে, যা বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে.
আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক সংকট
কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অনলাইন গেমিংয়ের ফলে ভারতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সম্মিলিতভাবে ২০,০০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক লোকসান হয়েছে. কলকাতা ফটাফটের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা তাদের উপার্জনের একটি বড় অংশ এখানে হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন. এর ফলে পরিবারে অশান্তি, মানসিক অবসাদ এবং ঋণের বোঝা বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে সমাজের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে.
আইনি কড়াকড়ি ও ২০২৬-এর নতুন নিয়ম
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে অবৈধ বেটিংয়ের বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে. নতুন 'প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং অ্যাক্ট' (PROGA) অনুযায়ী:
অবৈধভাবে জুয়া পরিচালনা করলে ৩ বছর পর্যন্ত জেল এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে.
দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে জেলের মেয়াদ ৫ বছর এবং জরিমানা ২ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে.
সামাজিক মাধ্যম বা ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে এ ধরনের খেলার প্রচার করলে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে.
ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সচেতনতা
প্রশাসন বারবার সতর্ক করছে যে, কলকাতা ফটাফটের মতো খেলাগুলি মূলত ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং এখানে জালিয়াতির সম্ভাবনা প্রবল. সরকার এখন কেবল সাইট ব্লক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে ব্যাংক ও পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়িয়েছে. বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতাই এই নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান পথ. নাগরিকদের মনে রাখতে হবে যে, ডিজিটাল বিনোদনের আড়ালে এই ধরনের 'গেম অফ চান্স' মূলত একটি আর্থিক ফাঁদ.