সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে বর্তমানে ‘ইউএনও ভিডিও ডাউনলোড’ (UNO Viral Video Video Download) সংক্রান্ত অসংখ্য পোস্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে "Drive Links" বা "Mega Links" নামে এই ভিডিওর লিঙ্কগুলো শেয়ার করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো সাধারণ ক্লাউড স্টোরেজ লিঙ্ক মনে হলেও, সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে এগুলো আসলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্ক্যাম। এই লিঙ্কগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডিভাইস হ্যাক করা বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একদল অসাধু চক্র।
কীভাবে কাজ করছে এই ফাঁদ?
প্রতারকরা সাধারণত চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ব্যবহার করে মানুষের কৌতূহলকে পুঁজি করে। স্বয়ংক্রিয় বা বোট (Bot) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই লিঙ্কগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যখনই কোনো ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখার আশায় এই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করেন, তখনই তিনি একটি অন্তহীন রিডাইরেকশন চক্রে পড়ে যান। সরাসরি ভিডিও দেখার বদলে ব্যবহারকারীকে একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের পেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
তথ্য চুরি ও ম্যালওয়্যার ঝুঁকি
এই ধরনের স্ক্যাম সাইটগুলো মূলত দুটি প্রধান উপায়ে ক্ষতি করে:
ম্যালওয়্যার ও অ্যাড-লুপ: লিঙ্কটিতে ক্লিক করার পর ডজন ডজন বিজ্ঞাপন পপ-আপ হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিজ্ঞাপনের আড়ালে ডিভাইসে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ‘ম্যালওয়্যার’ নিজে থেকেই ডাউনলোড হয়ে যায়। এতে আপনার ফোনের গ্যালারি, কন্টাক্ট লিস্ট এবং পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পরিচয় চুরি (Identity Theft): প্রায়শই ভিডিওটি ‘আনলক’ করার দোহাই দিয়ে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়া লগ-ইন ডিটেইলস চাওয়া হয়। এই সংবেদনশীল তথ্যগুলো সংগ্রহ করে পরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সুরক্ষিত থাকতে করণীয়
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেটে কোনো চাঞ্চল্যকর ভিডিওর লিঙ্ক দেখলেই তাতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অজানা সূত্র থেকে আসা গুগল ড্রাইভ বা মেগা লিঙ্কগুলো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি ভুলবশত কোনো লিঙ্কে ক্লিক করে ফেলেন এবং কোনো ফাইল ডাউনলোড হয়ে যায়, তবে দ্রুত সেটি ডিলিট করে ফোন বা পিসি স্ক্যান করা জরুরি।