থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফুকেটের একটি সমুদ্রসৈকতে অশালীন আচরণ করার অভিযোগে এক ফরাসি তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত ১০ এপ্রিল রায়ি বিচে (Rayee Beach) জনসমক্ষে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এই দম্পতিকে নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং নেটিজেনদের ক্ষোভের মুখে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে তাদের শনাক্ত করে।
অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ফরাসি দম্পতির নাম হালান (২৪) এবং নাদিয়া (২৪)। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্র ব্যবহার করে তাদের অনুসন্ধান শুরু করে। শেষ পর্যন্ত কাথু জেলার একটি হোটেল থেকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের কঠোর জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের স্বীকারোক্তি ও জরিমানা
জেরার মুখে ওই দম্পতি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা পুলিশকে জানান যে, ছুটির মেজাজে থাকাকালীন তারা "আবেগের বশবর্তী" হয়ে এই কাজ করে ফেলেছিলেন। এই ঘটনার জন্য তারা অনুতপ্ত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী জনসমক্ষে অশালীন আচরণের জন্য তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
French couple arrested after they were caught having s£x on Thai beach and m0@ning loudly
After causing a stir when they were spotted having s3x on a secluded beach in Thailand, a French couple was taken into custody.
Officers identified the two as Halan, 24, and Nadia, 24, who… pic.twitter.com/eGyNMzK3BH
— Lifeissues11 (@lifeissues_11) April 13, 2026
ক্রমবর্ধমান জনরোষ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের দ্বারা জনসমক্ষে অশালীন আচরণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে স্থানীয় থাই বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, পর্যটকরা স্থানীয় সংস্কৃতি ও শালীনতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ড প্রশাসন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর এবং কঠোর আইন প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।
পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা
থাইল্যান্ড পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিদেশি পর্যটকদের স্থানীয় আইন এবং সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। বিদেশের মাটিতে এই ধরনের আচরণ কেবল সংশ্লিষ্ট পর্যটকের জন্য আইনি বিপদ ডেকে আনে না, বরং তাদের দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। ফুকেটের এই ঘটনা পর্যটকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।