মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় দেবকৃষ্ণ পুরোহিত হত্যাকাণ্ডে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে. নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত তাঁর স্বামীকে ‘কালো’ বা শ্যামবর্ণ বলে নিয়মিত বিদ্রুপ করতেন. এই মানসিক হেনস্তা এবং ক্রমাগত পারিবারিক বিবাদের জেরে শেষ পর্যন্ত দেবকৃষ্ণকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে. পুলিশ ইতিপূর্বেই প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে.
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নিহতের পরিবারের দাবি
Priyanka Purohit Viral Video- দেবকৃষ্ণ পুরোহিতের পরিবারের সদস্যদের মতে, বিয়ের পর থেকেই প্রিয়াঙ্কা ও দেবকৃষ্ণের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে. পরিবারের অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কা দেবকৃষ্ণের গায়ের রং পছন্দ করতেন না এবং এই নিয়ে প্রায়ই তাঁকে অপমান করতেন. এমনকি বিয়ের কিছু সময় পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে. নিহতের পরিবারের দাবি, এই বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ এবং ব্যক্তিগত অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত খুনের মতো চরম অপরাধের দিকে প্রিয়াঙ্কাকে ঠেলে দিয়েছে.
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, দেবকৃষ্ণকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে. ঘটনার দিন রাতে ঘুমের মধ্যে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে. স্থানীয় সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়. প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রিয়াঙ্কার বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়লে পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে গ্রেফতার করা হয়.
তদন্তের অগ্রগতি
ধার জেলার পুলিশ জানিয়েছে যে তারা এই মামলায় প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে. পরিবারের পক্ষ থেকে আনা ‘গায়ের রঙের বিদ্রুপ’ এবং ‘অবৈধ সম্পর্কের’ বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে. প্রিয়াঙ্কা একা এই কাজ করেছেন নাকি এর পেছনে অন্য কারোর মদত রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে.
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে. দাম্পত্য কলহ এবং মানসিক হেনস্তা কীভাবে একটি মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাটি তারই উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে. বর্তমানে অভিযুক্ত প্রিয়াঙ্কা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং পুলিশ চার্জশিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে.