ওমানের ধোফার গভর্নরেট অঞ্চল আচমকাই গোটা বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় সামনে সারিতে চলে এসেছে। ওমানের দক্ষিণাঞ্চলের সবুজ পাহাড়ে, ঘন কুয়াশায় ঢাকা এক বিশাল গহ্বর নেমে গেছে গভীর অতলে। এই সিঙ্কহোল বা গহ্বরের ভিতর থেকে মাঝেমাঝেই ভেসে আসে রহস্যময় শব্দ। আর এই রহস্যময় গহ্বর আর শব্দের টানেই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। ওমানের ধোফার গভর্নরেট অঞ্চলে রয়েছে এমন চারটি সিঙ্কহোল, যার মধ্যে অন্যতম বিশ্বের সবচেয়ে বড়গুলির একটি :কাহফ তেইক। এর গভীরতা প্রায় ২১১ মিটার (৬৯২ ফুট) এবং প্রস্থ ১৫০ মিটার। যা প্রায় ৭০ তলা বিল্ডিংয়ের সমান গভীর। দুই-তৃতীয়াংশ আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা যদি মাটির নিচে ঢুকিয়ে দেন, তবেই সেই গভীরতা হবে। ২০২৪ সালে ওমানে এটি দেখতে প্রায় ৪০ লক্ষ পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন। ওমানের পর্যটন মন্ত্রক, ২০৪০ সালের মধ্যে পর্যটকদের এই সংখ্যা তিনগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে।
এই রহস্যময় জায়গাটিকে অনেকেই বলেন, 'পাখির কূপ'
এলাকার নরম ও শীতল আবহাওয়া উপসাগরীয় দেশগুলির পর্যটকদের জন্য বড় আকর্ষণ, বিশেষ করে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ থেকে বাঁচতে আসা পর্যটকদের কাছে। টাওই আতাইর সিঙ্কহোলে পর্যটকরা কংক্রিটের পথ ও সিঁড়ি দিয়ে ঘুরে দেখেন। তবে সব গহ্বর এতটা নিরাপদ নয়। পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে ৪০ মিনিট দূরে অবস্থিত শীহীত পিট-এর ধার কাদা ও পিচ্ছিল মাটি দিয়ে ঘেরা, যা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণে প্রশাসন সেখানে বেড়া ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসিয়েছে। "টাওই আতাইর" নামের অর্থ ধোফারের আঞ্চলিক ভাষায় "পাখির কূপ" — এখানে প্রতিধ্বনিতে ভেসে আসে পাখির ডাক, যা পাথরের গায়ে লেগে বিকৃত সুরে প্রতিধ্বনিত হয়।
দেখুন সেখানকার ভিডিও
Mind the gap: Oman's giant sinkholes draw in tourists.
Shrouded in fog in the lush mountains of southern Oman, a giant chasm plunges into the landscape, echoing with mysterious sounds that have spawned myths and legends among nearby tribeshttps://t.co/stXcyTLRId pic.twitter.com/PjmHiQew1W
— AFP News Agency (@AFP) August 8, 2025
কী কারণে এই সুবিশাল সিঙ্কহোলটি তৈরি হয়েছিল
১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই সিঙ্কহোল বাইরের বিশ্বের কাছে অজানা ছিল। সেই সময় ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় একদল স্লোভেনীয় গবেষক এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেন। বর্তমানে ধোফারের এই সিঙ্কহোলগুলো পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ধোফারের লোককথায় বলা হয়, এসব সিঙ্কহোল বড় কোনও উল্কাপাতের কারণে তৈরি হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, মহাকাশ থেকে সরাসরি আছড়ে পড়া পাথর গড়ে তুলেছে এই বিরাট গর্ত। তবে স্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ আলি ফারাজ আল-কাথিরি ব্যাখ্যা করেন, ছিদ্রযুক্ত চুনাপাথরে জল ঢুকে এক এমন ধরনের অ্যাসিড তৈরি করেছে- যা হাজার হাজার বছর ধরে পাথর গলিয়ে গুহা তৈরি করে।