অশোক ষষ্ঠী হল হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রত, মূলত এটি সন্তান সুখ, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য পালন করা হয়। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দেবী ষষ্ঠী হলেন শিশুদের রক্ষা ও আশীর্বাদ দানকারী দেবী। অশোক গাছের সঙ্গে এই ব্রতের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে, কারণ এটি দুঃখ ও কষ্ট দূর করার প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। সন্তানের মঙ্গল কামনায় চৈত্র মাসের নবরাত্রি তে পালন করা হয় অশোক ষষ্ঠী ব্রত।
২০২৫ এ কখন এই ষষ্ঠী তিথি পড়েছে তা জেনে নিন।
অশোক ষষ্ঠীর তিথি বুধবার, ২ এপ্রিল রাত থেকে এই তিথি শুরু হয়েছে, এই তিথি চলবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত। এই তিথি ৩ এপ্রিল রাত ৯টা বেজে ৪১ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। আরেকটি মত বলছে, অশোক ষষ্ঠীর তিথি বুধবার ভোর ৫.১৫ মিনিটে শুরু হয়ে, তিথি শেষ হবে বৃহস্পতিবার রাত ৩ টে ১৮ মিনিটে।
অশোক ষষ্ঠীর এক মুনি ও মুনিকন্যার কাহিনী:
অশোক ষষ্ঠী নিয়ে অনেক গল্প কাহিনী আছে। তার মধ্যে অন্যতম এই কাহিনী। অশোক ষষ্ঠীর পুজোর সঙ্গে এক মুনিকন্যার কাহিনী জড়িত। এক মুনি ঐ কন্যাকে অশোক গাছের নিচে কুড়িয়ে পান। অশোক বনেই থাকতেন ঐ মুনি। কুড়িয়ে পাওয়া সেই পালিত কন্যার নাম দেন অশোকা। অশোকা বড় হলে এক রাজপুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেন। অশোকাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর সময় তাঁর সঙ্গে কিছু অশোকফুল এবং অশোক গাছের বীজ বেঁধে দিয়েছিলেন মুনি। কন্যাকে বলেছিলেন, চৈত্র মাসের শুক্লো ষষ্ঠীর দিন ওই অশোক ফুলগুলো জল দিয়ে খেতে। শুধু তাই নয় এই বিশেষ দিনে অশোকাকে অন্ন জাতীয় কোন জিনিস না খাওয়ার কথা বলেন এইভাবেই সময় এগিয়ে যায়। ইতিমধ্যে অশোকা সাতটি পুত্র এবং এক কন্যার জন্ম দেন। তাদের বিয়েও হয়ে যায় । এক চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের সন্ধ্যেবেলা ব্রত পালনের আয়োজন করে বৌমারা। তারা অশোকার জন্যে মুগ কলাই রাঁধতে শুরু করে। কিন্তু ভুল করে কোনভাবে একটা ধান তার মধ্যে থেকে যায়। ধান থাকা খাবার অশোকা মুখে নিতেই তাঁর পরিবারে অনেকেই মারা যান। অশোকা ছুটে যান ওই মুনির কাছে। তাঁর ঘটি থেকে মন্ত্রপড়া জল অশোকাকে দেন। মুনির আদেশ মতো সেই মন্ত্রপুত জল পরিবারে মারা যাওয়া সকলের গায়ে ছিটিয়ে দিতেই সকলেই বেঁচে ওঠেন। মুনির নির্দেশ মতো, অশোকা চৈত্র মাসের ষষ্ঠীর দিন মা ষষ্ঠীর পুজো দিয়ে মুগ কলাই আর দই এর সঙ্গে অশোক ফুল খান। তারপর থেকেই এই ব্রত কথার প্রচলন শুরু হয় বলে প্রচলিত আছে।
সকলের বিশ্বাস, অশোক ষষ্ঠী ব্রত পালন করলে সন্তানের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল হয়।
অশোক ষষ্ঠী ব্রত ও পুজোর নিয়ম
- ব্রতধারীরা সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ মনে উপবাস করেন। - অশোক গাছের পাতা ও ফুল ব্যবহার করে দেবী ষষ্ঠীর পূজা করা হয়।
- উপবাস শেষে প্রসাদ গ্রহণ করা হয়, যাতে প্রধানত দই, মুড়ি ও বিভিন্ন ফল থাকে।
কথিত আছে, পুজো হয়ে গেলে দই এবং কাঁঠালি কলার মধ্যে অশোক ফুলের কুড়িগুলি রেখে দাঁতে না লাগিয়ে গিলে ফেলতে হয়। এরপর মুগকলাই খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়।