বর্তমান সময়ে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ৩০ বছরের পর অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো পা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ফোলা, ব্যথা ও জ্বালা।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কি হয়? ইউরিক অ্যাসিড হলো শরীরে থাকা এক ধরনের বর্জ্য পদার্থ, যা পিউরিন নামক এক উপাদান ভাঙলে তৈরি হয়। সাধারণত কিডনি এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। তবে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড রক্তে জমা হতে থাকলে তা গাঁটে জমে গিয়ে গাউট (Gout) নামক ব্যথাজনক আর্থ্রাইটিস তৈরি করতে পারে। এতে করে বিশেষ করে পায়ের আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা, ফোলা ও জ্বালা অনুভূত হয়।
ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে পা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ফোলা ও ব্যথা হওয়া খুব সাধারণ একটি উপসর্গ। এই অবস্থায় তাৎক্ষণিক আরাম পেতে কিছু সহজ পদ্ধতি ঘরেই অনুসরণ করা যায়। নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
* বরফ বা আইস প্যাক ব্যবহার করুন: পা ফোলা থাকলে সেই জায়গায় আইস প্যাক ব্যবহার করা অত্যন্ত উপকারী। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ মুড়ে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১৫-২০ মিনিট ধরে চেপে ধরুন। দিনে ২-৩ বার প্রয়োগ করলে ফোলা ও ব্যথা উভয়ই অনেকটাই কমে যাবে।
* পা উঁচু করে রাখুন: ফোলা পায়ের নিচে বালিশ বা কুশন দিয়ে পা কিছুটা উঁচু করে রাখলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ফোলা কমে আসে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় এটি করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
* হালকা ম্যাসাজ বা তেল মালিশ: অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল হালকা গরম করে ফোলা স্থানে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্তপ্রবাহ বাড়ে ও আরাম মেলে।ম্যাসাজ করার সময় খুব বেশি চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
* ইপসম সল্ট দিয়ে গরম জলে পা ডুবানো: একটি বড় বাটিতে গরম জলের মধ্যে ২-৩ টেবিল চামচ ইপসম সল্ট (Epsom Salt) মিশিয়ে তাতে পা ১৫-২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।এতে করে ব্যথা ও ফোলাভাব কমে এবং আরামদায়ক অনুভূতি হয়।
* পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: পা ফুলে গেলে হাঁটাহাঁটি বা ভারী কাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা উচিত। শরীরকে বিশ্রাম দিলে প্রদাহ ও ব্যথা কমে আসে।
* বেশি জল পান করুন: ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করতে হলে দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করা উচিত। এটি কিডনিকে সক্রিয় রাখে এবং অতিরিক্ত অ্যাসিড বের করে দেয়।
* খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার (যেমন লাল মাংস, ডাল, অ্যালকোহল, সামুদ্রিক মাছ) এড়িয়ে চলুন। বেশি করে শাকসবজি, ফল ও কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খান।
ঘরোয়া প্রতিকার যা উপকারে আসবে:
১. লেবু ও গরম জল:
প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জলে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এটি শরীরকে ক্ষারীয় করে তোলে এবং ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।
২. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার:
এক গ্লাস জলেতে ১ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে ২ বার পান করুন। এটি শরীরের pH ব্যালেন্স করে এবং ইউরিক অ্যাসিড কমায়।
৩. চেরা লাউ (Bottle Gourd) ও পেয়ারার রস:
প্রতিদিন সকালে চেরা লাউয়ের রস বা পেয়ারার রস খাওয়া গেলে দেহে পিউরিনের প্রভাব কমে, ফলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. আদা ও হলুদের মিশ্রণ:
আদা ও হলুদ উভয়েই প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক। এক কাপ গরম পানিতে আদা ও হলুদ ফুটিয়ে রস বানিয়ে পান করলে ব্যথা ও ফোলা উপশম হয়।
৫. জলখাবারে চেরি বা আঙুর:
চেরি ও আঙুরে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সহায়ক।
এই সহজ ও ঘরোয়া প্রতিকারগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে ইউরিক অ্যাসিডের প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।