গরমের দিনে ঠান্ডা এক বন্ধু: ঘরোয়া ছোলার ছাতু
প্রখর রোদে জ্বলছে চারদিক। দুপুর গড়িয়ে এলেই শরীর যেন হাঁপিয়ে ওঠে, কিছুতেই মন বসে না। এই গরমে চাই ঠান্ডা ঠান্ডা এক গ্লাস ছাতু, সাথে কাঁচা পেঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কা কুচি। সে এক স্বাদ ভোলা যায় না!
আজকাল আমরা বাজার থেকে প্যাকেটের ছাতু কিনে খাই ঠিকই,কিন্তু জানেন কি, ঘরেই বানানো ছাতুর স্বাদ আর পুষ্টিগুণ দুটোই অনেক বেশি? ঠাকুমার সেই পুরনো রেসিপি খুঁজে বের করে,আবার একবার বানিয়ে ফেলুন ছাতু।
ছাতু তৈরির উপকরণ: ছোলা – ৫০০ গ্রাম (দেশি বাদামি ছোলা হলে সবচেয়ে ভালো), মেথি – ১ চা চামচ (হজমের জন্য দারুণ), জিরে – ১ চা চামচ, শুকনো মরিচ – ১টি (হালকা ঝাঁঝের জন্য, বাদ দেওয়া যেতে পারে), আদা – ১ ইঞ্চি (স্লাইস করে শুকিয়ে নিতে হবে, চাইলে গুঁড়ো আদা), গোলমরিচ – ১/২ চা চামচ ( বাদ দেওয়া যেতে পারে), শুকনো পুদিনা পাতা – ১ চা চামচ (ঠান্ডা ভাব আনবে), শুকনো তেজপাতা – ১টি (গন্ধের জন্য, ভাজার সময়ই ব্যবহার করতে হবে)
প্রস্তুত প্রণালী:
১. ছোলা ভিজিয়ে রাখা:
প্রথমে ছোলাগুলো ভালো করে ধুয়ে রাতভর জলভরে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে ছোলা নরম হয়ে যাবে এবং ভাজলে সহজে কুরকুরে হবে।
২. শুকনো করা:
পরদিন সকালে ছোলাগুলো ঝরঝরে করে জল ছেঁকে নিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড়ে বিছিয়ে দিনরোদে শুকিয়ে নাও। ছোলার মধ্যে যেন কোনো আর্দ্রতা না থাকে, নইলে ছাতু তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যাবে।
৩. ভাজা পর্ব:
একটা মোটা তলার কড়াই গরম করে ছোলাগুলো হালকা আঁচে ভাজতে হবে। যখন ছোলার গায়ে হালকা ফাটার শব্দ হবে এবং বাদামি গন্ধ ছড়াবে, বুঝে নিতে হবে ভাজা হয়ে গেছে। তারপর একে একে জিরে, মেথি, শুকনো মরিচ, আদা, তেজপাতা আর পুদিনা পাতা হালকা ভেজতে হবে। একবারে সব মশলা না দিয়ে আলাদা আলাদা করে ভাজলে গন্ধ সুন্দর আসে।
৪. ঠান্ডা করা:
সব উপকরণ ঠান্ডা হলে মিক্সিতে দিয়ে ধাপে ধাপে গুঁড়ো করুন। প্রথমে ছোলা, তারপর মশলা। চাইলে একসাথে গুঁড়ো করলেও হবে। মিহি করে নিতে চেষ্টা করুন, তাহলে পানীয়ে দলা বাঁধবে না।
৫. ছাঁকা ও সংরক্ষণ:
চাইলে একটা চালনি দিয়ে ছেঁকে নিত্রুনভাল হয়, যাতে বড় দানা বা আঁশ পড়ে না। এরপর শুকনো, বায়ুরোধী কাঁচ বা স্টিলের পাত্রে সংরক্ষণ করলে মাসখানেক পর্যন্ত ভালো থাকবে।
ছাতুর পানীয় বানানোর পদ্ধতি:
এবার আসি ছাতুর শরবত বানানোর কথায়। এক গ্লাস ঠান্ডা জলে ২-৩ চামচ ছাতু মিশিয়ে নিতে হবে। ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে যেন দলা না বাঁধে।
ঝাল ভার্সন:ছাতু, জল, সামান্য লবণ, কাঁচা পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি, লেবুর রস,এক চিমটি ভাজা জিরে গুঁড়ো
মিষ্টি ভার্সন:ছাতু,ঠান্ডা দুধ বা জল,মধু বা চিনি, একটু এলাচ গুঁড়ো (ঐচ্ছিক), চাইলে দই দিয়ে লস্যির মত বানাতে পারো, সেটা আবার অন্য এক স্বাদ!
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
ছোলার ছাতু প্রোটিনে ভরপুর। শরীরকে চাঙ্গা রাখে, শক্তি জোগায়। এতে ফাইবার আছে, যা হজমে সাহায্য করে। গরমে ঘাম ঝরলে শরীর থেকে যে লবণ, জল বেরিয়ে যায়—ছাতুর শরবত তা পুষিয়ে দেয়। পেট ঠান্ডা রাখতেও এটি কার্যকর। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্যও এটা ভালো—কম ক্যালোরি, বেশি পুষ্টিগুণ।