হোলা মহল্লা শিখ সম্প্রদায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই উৎসবটি পূর্ণ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে শিখ সম্প্রদায়। এই উৎসব এতটাই জাঁকজমকপূর্ণ যে, এটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আনন্দপুর সাহেবে আসে মানুষ। তিন দিনের এই উৎসব ধর্মীয় ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে শিখ ধর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসবের মাধ্যমে ঐক্য ও সাহসিকতার বার্তা দেওয়া হয়। এই উৎসব পালন করার উদ্দেশ্য হল গুরু গোবিন্দ সিং জির দ্বারা এমন একটি সম্প্রদায় তৈরি করা যারা সক্ষম এবং সাহসী যোদ্ধা হওয়ার সঙ্গে আত্ম-শৃঙ্খলা এবং আধ্যাত্মিকতায়ও দক্ষ। এককথায় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সাহসিকতা এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই উৎসব শিখ সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা বিশ্বের শিখ সম্প্রদায় অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে পালন করে এই উৎসবটি। ১৭ শতকের শেষের দিকে শিখ ধর্মের দশম গুরু গোবিন্দ সিং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'হোলা মহল্লা' শিখ সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং শক্তি প্রদর্শনের জন্য আয়োজন করা হয়, কারণ সেই সময়ে সৈন্যদের সর্বদা মুঘলদের আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হত। ঐতিহ্য অনুসারে, বর্তমান যুগে শিখ সম্প্রদায় নকল যুদ্ধ এবং মহড়া পরিচালনা করে তাদের সামরিক দক্ষতা প্রদর্শন করে। ২০২৫ সালে ১৪ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পালন করা হবে হোলা মহল্লা।

হোলা মহল্লার তিন দিনে বিভিন্ন গুরুদ্বারে প্রার্থনা, কীর্তন, ভজন এবং প্রভাত ফেরি ইত্যাদির মাধ্যমে শুরু হয় হোলা মহল্লা উৎসব। আনন্দপুরে বিশেষভাবে নগর-কীর্তন শোভাযাত্রা বের করা হয়। এই উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শিখ সম্প্রদায় এখানে আসেন। হোলা মহল্লার পরের দিন মার্শাল আর্টসের আয়োজন করা হয়। এই ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট বর্তমান যুগের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এই দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এই উৎসবের অংশ হয়ে ওঠে শিখ সম্প্রদায়। উৎসবের তৃতীয় এবং শেষ দিনে দেশ ও সম্প্রদায়ের জন্য লড়াই করা এবং তাদের জীবন উৎসর্গকারী যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিখ সম্প্রদায়।