গ্রেফতার পূজা ও কমলা (ছবিঃX)

নয়াদিল্লিঃ বাড়িতেই খুন(Murder) হয়েছেন এক মহিলা। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের (Police)। খুনের নেপথ্যে রয়েছে তাঁরই পুত্রবধূ। শুধু শাশুড়ি নয়, নিজের স্বামীকেও খুন করেছে সেই মহিলা এমনটাই অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, স্বামীকে খুনের পর ভাসুর ও দেওরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কেও জড়ায় সে। অবশেষে জোড়া খুনে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তের বোন ও তার প্রেমিককে।

জোড়া খুনে গ্রেফতার গৃহবধূ, সমস্ত কীর্তির পর্দাফাঁস হতে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে। মৃত মহিলার নাম সুশীলা দেবী। বয়স ৫৪। পুত্রবধূ পূজার হাতে মৃত্যু হয় তাঁর। গত ২৪ জুন ঝাঁসির বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় সুশীলা দেবীর দেহ। লণ্ডভণ্ড ছিল বাড়ির অবস্থা, ঘর থেকে ৮ লক্ষ টাকা খোয়া যায় বলেও অভিযোগ। এরপরই পুত্রবধূ পূজার উপর সন্দেহ হয় পুলিশের। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশে। পরে পুলিশি জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করে পূজা। পুলিশকে সে জানায়, বোন কমলা ও কমলার প্রেমিক অনিল ভার্মার সাহায্য নিয়ে শাশুড়িকে খুন করে সে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে আরও কিছু বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে পুলিশের হাতে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে নিজের স্বামীকেও খুন করে পূজা। স্বামীর মৃত্যুর পর ওর কল্যাণ সিংয়ের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে শুরু করে সে। আচমকাই মৃত্যু হয় কল্যাণের। এরপর পূজাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন শ্বশুর অজয় সিং ও ভাসুর সন্তোষ। সেই বাড়িতে এসে ফের ভাসুর সন্তোষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায় পূজা। সন্তোষ বিবাহিত। এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান সন্তোষের স্ত্রী। পরে সন্তোষ ও পূজার একটি সন্তানও হয়।

কেন শাশুড়িকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় পূজা? পুলিশকে সে জানায়,শ্বশুরবাড়ির ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। যার মধ্যে ৮ বিঘা তার প্রাপ্য। সেই জমি বিক্রি করে গোয়ালিয়রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় পুজা। সন্তোষ ও অজয় এই প্রস্তাবে রাজি হলেও বেঁকে বসেন সুশীলা। এরপরই শাশুড়িকে খুন করার পরিকল্পনা করে পূজা।

স্বামী-শাশুড়িকে খুন করে ভাসুর ও দেওয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, পুলিশের জালে 'কিলার' গৃহবধূ