দিল্ল, ৬ অগাস্ট: এবারও খবরের শিরোনামে এক মার্চেন্ট নেভি অফিসার। তবে এবার স্ত্রীর (Wife) হাতে খুন হতে হয়নি তাঁকে। এবার খুনি মুসকান রাস্তোগির (সৌরভ রাজপুত নামে মীরাটের এক মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে প্রেমিক সাহিল শুক্লর সঙ্গে খুন করে স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি) জায়গায় অপারাধী হিসেবে নাম উঠে এল অনুরাগ সিং নামে এক মার্চেন্ট নেভি অফিসারের। যে অনুরাগ সিংয়ের (Anurag Singh) বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মধু সিংকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মধু সিংকে অত্যাচারের জেরে তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযোগ, পণের দাবিতে টানা ৫ মাস ধরে অত্যাচার চলে মধু সিংয়ের উপর। এরপর মধু সিংয়ের মৃত্যুর খবর আসে। যদিও অনুরাগ সিংয়ের বাড়ির দাবি, মধু আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে জানা যয়া, মধু সিংয়ের মৃত্যু হয়েছে গলায় ফাঁস লেগে। মধু সিংয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী অনুরাগ সিংকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আপাতত অনুরাগ সিংকে পুলিশ জেরা করছে।
জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান বসে অনুরাগ এবং মধুর
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে হয় অনুরাগ সিং এবং মধুর। একটি ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট থেকে পরিচয়ের পর অনুরাগের সঙ্গে মধু সিংয়ের বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়। ওই সময় অনুরাগ ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে মধুর পরিবারের কাছে। তবে মধুর পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাঁরা ৫ লক্ষ টাকা দিতে পারবেন। পুলিশের কাছে অনুরাগের পরিবারের সেই হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটের কথোপকথনও প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগ, বিয়ের পর হোলির সময় প্রথম মধুর গায়ে হাত তোলে অনুরাগ। ওই সময় মধু বাড়িতে চলে যান শ্বশুরবাড়ি থেকে। এরপর পণের বাদবাকি টাকা দিয়ে অনুরাগের হাতে ফের মেয়েকে তুলে দেন মধুর বাবা।
অনুরাগ শেষ করে দেয় মধুর সামাজিক জীবন
মধু অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বল মেয়ে ছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকে তাঁর দিদির সবার সঙ্গে মেলামেশা অনুরাগ বন্ধ করে দেয় বলে মধুর বোনের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, মাঝে মধ্যেই অনুরাগ মারধর করত মধুকে। বিনা কারণেই মধুর গায়ে হাত তুলত অনুরাগ। পুলিশের কাছে মধুর পরিবার এমনই অভিযোগ করেন। মদ্যপ হয়ে বাড়িতে ঝুকেও অনুরাগ স্ত্রীকে মারধর করত বলে অভিযোগ।
অনুরাগের অসভ্যতামি এবং পরকিয়া
মধু সিংয়ের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পরও অনুরাগের সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্ক ছিল। শুধু তাই নয়, বিয়ের পরও প্রাক্তন প্রেমিকাকে নিয়ে অনুরাগ লখনউয়ের একাধিক হোটেলে রাত কাটাত বলে অভিযোগ। এসবের মাঝে মধু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তবে তাঁকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলে মৃতের বাবা অভিযোগ করেন। ৪ অগাস্ট ভোর সাড়ে চারটের সময় মধু তাঁর বোনকে ফোন করেন। বলেন, অনুরাগ তাঁকে মারধর করছে। বাড়িতে মারধরের কথা জানিয়েই মধু আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ তাঁর বাবার। তবে মধুকে খুন করেছে অনুরাগই। কাঁদতে কাঁদতে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।
অনুরাগ এবং তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার চ্যাট পড়ে ফেলেন মধু মৃত্যুর আগে। সেই কথোপকথনের অংশ তিনি বাড়িতে পাঠিয়ে রাখেন বলে পুলিশ জানতে পারে।
অনুরাগ সিংয়ের গ্রেফতারি
পুলিশ জানতে পারে, মধুর মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পর পুলিশকে জানিয়েছে অনুরাগ। এমনকী ৫ অগাস্ট কাজের মহিলাকে তাদের বাড়িতে অনুরাগ নিষেধ করে বলেও জানা যায়। তবে কাজের মহিলা অনুরাগের ফোন দেখতে পাননি। তিনি সময় মত কাজ করতে চলে যান। বার বার কলিং বেল বাজিয়েও সেদিন কেউ দরজা খোলেনি। এরপর সকাল সাড়ে দশটা অনলাইনে খাবার যায় অনুরাগের বাড়িতে। ঘরে স্ত্রীর মৃতদেহ রেখে অনুরাগ কীভাবে এত শান্ত জীবনযাপন করছিল, তা দেখে অবাক হয়ে যায় পুলিশও।