বিজেপি নেতা ১ বছর ধরে তাঁকে ধর্ষণ করেছে, থানায় গেলেন উত্তরপ্রদেশের আইনের ছাত্রী
স্বামী চিন্ময়ানন্দ(File Photo)

দিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর: বিজেপি নেতা চিন্ময়ানন্দ তাঁকে ধর্ষণ করেছে। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ না নেওয়ায় দিল্লির লোধি রোডের থানায় গিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করেন তিনি। নির্যাতিতা একজন আইন পড়ুয়া, তিনি আবার অভিযুক্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দের তৈরি ল কলেজেরই পড়ুয়া। তাঁর অভিযোগ, ধর্ষণের পাশাপাশি গত এক বছর ধরে তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছে অভিযুক্ত। এরপরেও উত্তরপ্রদেশের পুলিশ স্বামী চিন্ময়ানন্দকে গ্রেপ্তার করেনি। প্রথমে এক ভিডিও বার্তায় চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন বছর তেইশের ওই তরুণী। এরপর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হতে না হতেই আচমকা নির্যাতিতা নিখোঁজ হয়ে যান। তাই বাধ্য হয়ে গত ৩০ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার বাবা।

তিনি মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, এরপর শাহাজাহানপুরের পুলিশ জানায় রাজস্থানে নাকি ওই তরুণীকে দেখা গিয়েছে। তিনি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে পুলিশের এই কথায় পাত্তা দেয়নি সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্যাতিতাকে আদালতে হাজির করা না হলে মামলার অগ্রগতি সম্ভব নয়।এ ই শুনেই পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁকে ও তাঁর বন্ধুদের লখনউতে ফিরিয়ে আনে। ওই তরুণীর মুখ থেকেই সব কথা শুনতে চান বিচারপতিরা। রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানির পর তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আইনের ওই ছাত্রী জানান, সিটের তদন্তকারীরা টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ তিনি জানিয়েছেন। এরপরও তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতা। আরও পড়ুন-ভারতের মাটিতে অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই নেই, অসমে পা রেখেই গলা তুললেন অমিত শাহ

উল্লেখ্য চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ নিয়ে দলীয় নেতৃ্ত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছে। এমনিতেই বিজেপির এক বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে ফেঁসে জেল খাটছে। নির্যাতিতার বাবাকে মেরে ফেলার পরে তাঁর গোটা পরিবারকেও শেষ করার চেষ্টা করেছিল সে। সেকারণে গত জুলাইতেই নির্যাতিতা, তাঁর আইনজীবী ও দুই কাকিমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করে। কাকিমাদের মৃত্যু হলেও প্রাণে বেঁচে যান নির্যাতিতা ও তাঁর আইনজীবী।