Unnao Rape Case: জেল থেকে বেরিয়েই উন্নাওয়ের নির্যাতিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা ধর্ষকদের, উত্তরপ্রদেশে শোরগোল
প্রতীকী ছবি(Photo Credit: PTI)

উন্নাও, ৫ ডিসেম্বর: গণধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যদিও আদালতে চলছে মামলা। জামিনে ছাড়া পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রমাণ লোপাটের জন্য নির্যাতিতাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করল ধর্ষকের দল। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) উন্নাও (Unnao) জেলায় নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার সকালে। গণধর্ষিতা হয়েছিলেন, ছিঁড়েখুঁড়ে গিয়েছিল শরীর। রক্তাক্ত মন নিয়েও লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। অপরাধীদের যোগ্য শাস্তি দেওয়ার জন্য গর্জে উঠেছিলেন এই সাহসিনী। তারই ভয়ঙ্কর পরিণতি হল আজ। গত মার্চে পাঁচ জন মিলে ধর্ষণ করে বছর তেইশের ওই তরুণীকে। ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তারও করে। বাকি দু’জন এখনও ফেরার। গত সপ্তাহে জামিনে ছাড়া পায় অভিযুক্তরা।

এদিন সকালে সেই ধর্ষণের মামলায় শুনানির জন্য তরুণী যখন আদালতে যাচ্ছিলেন, তাঁর রাস্তা আটকে দাঁড়ায় পাঁচজন। তরুণী সেই সময় ছিলেন রেল গেটের কাছে। তাঁকে টেনে হিঁচড়ে পাশের ধান ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানেই তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তরুণীর আর্তনাদে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। খবর যায় পুলিশে। তরুণীকে যখন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাঁর শরীরের বেশিরভাগটাই পুড়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টায় অভিযুক্ত পাঁচজনের তিনজন ধর্ষণে অভিযুক্ত। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরেই তারা তরুণীর খোঁজে গ্রামের আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এদিনও আদালতে যাওয়ার নির্যাতিতার পিছু নেয় তারা। রেল গেটের কাছে নির্জন জায়গা দেখে সেখানেই তরুণীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নির্যাতিতা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর শরীরের ৬০-৭০ শতাংশই পুড়ে গেছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লখনউতে। আরও পড়ুন-Onion Price Rise Row: দুর্মূল্য পেঁয়াজের ঝাঁঝে নাকাল দেশ, অর্থমন্ত্রী বলছেন ‘আমি তেমন পেঁয়াজ খাই না’ (ভিডিও)

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সচিব প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা তলানিতে এসে ঠেকেছে। ডিজিপি ওপি সিং জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনা খুবই দুর্ভগ্যজনক। তিন অভিযুক্তের মধ্যে দু’জন, হরি শংকর ত্রিবেদী এবং শুভম ত্রিবেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন পলাতক।’ নির্যাতিতার যাতে সঠিক চিকিত্‍সা হয় তা সুনিশ্চিত করতে ট্রমা সেন্টারে পৌঁছে গিয়েছেন লখনউ জোনের এডিজি।