৩৭০-এর গেরো কাটিয়ে ফের পর্যটককে ডাকছে কাশ্মীর, রাজ্যপালের নির্দেশে উঠল নিষেধাজ্ঞা
কাশ্মীর পুলিশ প্রতীকী ছবি (Photo Credit: IANS)

শ্রীনগর, ১০ অক্টোবর: ফের ভূস্বর্গ কাশ্মীরে ভ্রমণের সুযোগ মিলল। রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের (Governor Satya Pal Malik) নির্দেশে গত দুমাস ধরে চালু থাকা পর্যটক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা উঠতেই ফের পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কাশ্মীর। ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার আগেভাগেই আগস্ট মাসের একেবারে শুরুতে উপত্যকা থেকে পর্যটকদের ফিরতে নির্দেশ দিয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ প্রশাসন। তার পরেপরেই পাঁচ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা (Article 370) তুলে নেওয়া হয়। এবার সেই পর্যটকদের কাশ্মীর ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশিকা তুলে নিল সেখানকার প্রশাসন। একই সঙ্গে ভূস্বর্গে ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের আমন্ত্রণও জানানো হল।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ভ্রমণে আসা পর্যটকরা প্রশাসনিক তরফে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পাবেন। ১০ তারিখে যাতে পর্যটক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় সেজন্য গত আট তারিখেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। মুখ্যসচিব ও পরামর্শদাতাদের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের সময়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমেই পর্যটকদের জন্য উপত্যকার দরজা খুলে দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যায়। এই সময় প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার পর্যটক উপত্যকাতে আসেন। এবার সেই মরশুমেই কি না থমথম করছে গোটা কাশ্মীর। এমনিতেই পর্যটন ব্যাবসার উপরে ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ভূস্বর্গ। আর সেখানেই কিনা গত আগস্ট থেকে কোনও পর্যটক নেই। গটা উপত্যকাতে কমিউনিকেশন ব্ল্যাক আউট জারি। সেনা পুলিশে ছয়লাপ সমস্ত এলাকা। এর থেকে খারাপ সময় কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসায় আগে কখনও আসেনি। ফের পুরনো দিন ফেরাতে পর্যটকদের জন্য নতুন করে কাশ্মীরে দরজা খুলে দেওয়া হল। এরফলে নতুন শুরুর অবকাশ দেখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। আরও পড়ুন-ভারত-পাক সীমান্তে উড়ছে সন্দেহভাজন ড্রোন, বিএসএফ-কে সতর্ক করল পাঞ্জাব পুলিশ

গত পাঁচ আগস্ট কেন্দ্র সরকার কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়, সংবিধানের ৩৫-এ তুলে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে খর্ব করা হয় বিশেষ অধিকার। এসবের আগেই সন্ত্রাসী হানার প্রসঙ্গ তুলে পর্যটকদের উপত্যকা ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিল সেখানকার প্রশাসন। তারপর একে একে এসব খর্ব করা হয়। উপত্যকা জুড়ে কমিউনিকেশন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই রেশ এখনও চলছে তা বলাই বাহুল্য।