রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দেগে বললেন শরদ পাওয়ার
শরদ পাওয়ার। | File Image (Photo Credits: Twitter@PawarSpeaks)

মুম্বই, ১৫ সেপ্টেম্বর: এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার (Sharad Pawar) তোপ দাগলেন। মহারাষ্ট্র নির্বাচনের এক দলীয় সভায় শরদ পওয়ার বললেন, ''পাকিস্তানের অনেকেই যুদ্ধ চায় না। ভারতেরও অনেকে চায় না। তবু দেশে যুদ্ধ যুদ্ধ জিগিড় তোলা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে।'' এনসিপি-র সংখ্যালঘু শাখার এক সভায় ভারতীয় রাজনীতির পোড়খাওয়া এই নেতা বললেন, '' সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে আসলে লাভ কিছুই হবে না। বরং উপত্যকায় সন্ত্রাস বাড়বে। মুসলিম এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনেক অপব্যাখা করা হচ্ছে শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।"দেশে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনার কথা তুলে ধরেও নরেন্দ্র মোদি সরকরাকে কড়া সমালোচনাও করেছেন পাওয়ার।

গণপিটুনির ইস্যুতে পাওয়ার বলেন, ''জাতীয়তাবাদের নামে বিশেষ এক সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। আমি ভারতীয় মানে এই নয় যে আমাকে নিজেকে তার প্রমাণ দিতে হবে।''আরও পড়ুন-শোভন চ্যাটার্জি-র বিজেপি ছাড়ার জল্পনায় যোগ তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার ফোন! 

ভারত-পাকিস্তান নিয়ে সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়ে শরদ পাওয়ার বলেন, '' পাকিস্তানে আমি গিয়েছে। সেখানকার অনেক মানুষই ভাল। দেখেছি পাকিস্তানের মানুষ কতটা অতিথি বৎসল। সীমান্তের ওপারের মানুষ ক্ষুব্ধ বলে যা প্রচার করা হচ্ছে তা সবটা ঠিক নয়। এখানকার মত ওখানেও অনেকেই যুদ্ধ চায় না। কিন্তু এখন যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব তোলা হচ্ছে শুধু রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য়। দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের ইস্যু তুলে মোদি সরকার বাঁচার চেষ্টা করে বলেও এনসিপি প্রধান জানান।

কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিরুদ্ধেও সরব হন পাওয়ার। তিনি বলেন, '' সংবিধানের ৩৭০ ধারা তৈরিই হয়েছিল কাশ্মীরকে বিশেষ কিছু মর্যদা দিতে। ওই ধারা বিলোপ করে সরকার বুঝিয়ে দিল, মোদী সরকার সংখ্যালঘু বিরোধী। ৩৭০ ধারা তোলা হলে সংবিধানের ৩৭১ ধারা কেন বিলোপ হচ্ছে না? সবই আসলে রাজনীতি। ৩৭০ ধারা বিলোপ করায় খারাপ বার্তা যাচ্ছে। আসলে সংখ্যালঘুরা যেখানে সংখ্যাগুরু সেখানে বিজেপি এসব করে বিভেদের বার্তা দিচ্ছে। আসলে বিজেপি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে কড়া বার্তা দিতে চায়।''

মহারাষ্ট্রের বন্যায় বিজেপি শাসিত কেন্দ্র ও রাজ্যসরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন শরদ পাওয়ার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফদনবিশ কেন একবারও মহারাষ্ট্রে বন্যা কবলিত অঞ্চলে দেখে এলেন না তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শরদ পাওয়ার।